
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সোলার বিদ্যুৎ উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থার সঙ্গে যথাযথ চুক্তি ও নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু না থাকায় এই ক্ষতি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানে ৫ কিলোওয়াট বা তার বেশি ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ও গ্রাহকের মধ্যে নেট মিটারিং চুক্তি করার বিধান রয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে বিল সমন্বয় করা সম্ভব হয়।
জানা যায়, সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে এবং সেখানে ইতোমধ্যে নেট মিটারিং চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে।
অন্যদিকে, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ১৭০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হলেও এখনো পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান নেসকোর সঙ্গে কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। এমনকি সেখানে নেট মিটারও স্থাপন করা হয়নি। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ব্যবহৃত হলেও এর আর্থিক সমন্বয় হচ্ছে না।
নেসকোর সহকারী প্রকৌশলী মাহফুজ রহমান জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে তাদের কোনো চুক্তি হয়নি এবং সেখানে নেট মিটারও স্থাপন করা হয়নি।
অপরদিকে, সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নকারী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম জানান, ১৭০ কিলোওয়াট সোলার সিস্টেমটি ওয়ান-গ্রিড লাইনের মাধ্যমে চালু রয়েছে।
একই বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের মতে, এই সিস্টেম থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৫ লাখ টাকার সমপরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. ওয়াদুদ বলেন, আমাদের নেট মিটারিং ব্যবস্থা এখনো চালু হয়নি। বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আমরা নেসকোর সঙ্গে যোগাযোগ করব।
নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী অশীথ পর্দ্দার জানান, গত মার্চ মাসে হাসপাতালে প্রায় ৭০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে। তবে বিল সমন্বয় সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত নেট মিটারিং চালু ও প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পন্ন করা হলে এই আর্থিক ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হবে এবং সোলার বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে।











