
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্র জোটের মধ্যে চলমান সংঘাত ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। গত কয়েক দিনের টানা হামলা ও পাল্টা হামলায় বিভিন্ন দেশে মোট নিহতের সংখ্যা ১৩০০ ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি নারী ও শিশুদেরও বড় একটি অংশ রয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে ইরানের মিনাব শহরে। গত শনিবার একটি স্কুলে চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১,২৩0 জন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৭৫ জন স্কুলছাত্রী ও স্কুলের কর্মী ছিলেন। হামলার পর এলাকায় ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে পাল্টা জবাব হিসেবে ইরানও ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গত ১ মার্চ ইসরায়েলের বেইট শেমেস শহরে ইরানি হামলায় ১১ জন ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯ জন একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেরও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ জন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। লেবানন-এ ইসরায়েলি হামলায় সোমবার থেকে অন্তত ৭৭ জন নিহত হয়েছেন। বাহরাইন-এর সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার সময় সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একজনের মৃত্যু হয়েছে। কুয়েত-এ ইরানি হামলায় ২ জন সেনাসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ওমান উপকূলে একটি পণ্যবাহী জাহাজে প্রজেক্টাইল আঘাত হানায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত-এ তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পরিস্থিতি ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখনো সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।











