আপনার জানার ও বিনোদনের ঠিকানা

‘চলতি শতাব্দীর শেষে প্রতিটি দেশের জনসংখ্যা সঙ্কুচিত হবে, বলছে গবেষণা’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আগামী ২১০০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের জনসংখ্যা কমবে বলে এক গবেষণায় জানা গেছে। চিকিৎসা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সাময়িকী ল্যানসেটে গত সোমবার প্রকাশিত এই গবেষণার সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২১০০ সালের মধ্যে বিশ্বের ২০৪টি দেশের মধ্যে ১৯৮টি দেশের জনসংখ্যা সঙ্কুচিত হবে। আর সেসময বেশিরভাগ শিশু জন্মের ঘটনা দরিদ্র দেশগুলোতেই দেখা যাবে।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে জন্মহার এতোটাই কমে যাবে যে দেশগুলোতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা বজায় রাখা কঠিন হবে বলে বড় এক গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন (আইএইচএমই)-এর পরিচালিত সমীক্ষা অনুসারে, ২১০০ সালে বিশ্বে জন্ম নেওয়া প্রতি দুই শিশুর মধ্যে একজনের জন্ম হবে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোতে। আর সেসময় কেবল সোমালিয়া, টোঙ্গা, নাইজার, চাদ, সামোয়া এবং তাজিকিস্তান তাদের জনসংখ্যা (বৃদ্ধির ধারা’) বজায় রাখতে সক্ষম হবে।’

আইএইচএমই-এর সহ-প্রধান লেখক এবং প্রধান গবেষণা বিজ্ঞানী নাটালিয়া ভি ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘প্রাপ্ত ফলাফলের অর্থগুলো অপরিসীম। জন্মহার এবং জীবিত জন্মের এই ভবিষ্যৎ প্রবণতাগুলো বিশ্বব্যাপী অর্থনীতি এবং ক্ষমতার আন্তর্জাতিক ভারসাম্যকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্গঠন করবে এবং সমাজগুলোকেও পুনর্গঠন করতে হবে।’

গবেষণার লেখকরা বলেছেন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সেসময় দেশগুলোকে ‘বেবি বুম’ এবং ‘বেবি বাস্ট’ বিভাজনের দিকে নিয়ে যাবে, যেখানে ধনী দেশগুলো তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে লড়াই করবে এবং দরিদ্র দেশগুলো কীভাবে নিজেদের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যাকে সহায়তা করা যায় সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় লড়াই করবে।

গবেষণার সহ-প্রধান লেখক এবং আইএইচএমই-এর ভারপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক অস্টিন ই শুমাখার বলেছেন, ‘সর্বোচ্চ জন্মহারের কারণে সাব-সাহারান আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করা।’

তিনি আরও বলেন, ‘জন্মের সংখ্যার এই বিশাল পরিবর্তন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে, স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো উন্নত করার প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয় এবং চরম দারিদ্র্য দূরীকরণ ও নারীর প্রজনন অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপের পাশাপাশি শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস অব্যাহত রাখা, পরিবার পরিকল্পনা এবং মেয়েদের শিক্ষার বিষয়টি প্রতিটি সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসেবে থাকতে হবে।’

প্রসঙ্গত, নানা সমীক্ষা ও আদমশুমারির তথ্য এবং ১৯৫০ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে অন্যান্য উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ, ইনজুরি অ্যান্ড রিস্ক ফ্যাক্টরস স্টাডির অংশ হিসাবে গবেষণাটি প্রস্তুত করা হয়েছে। কয়েক দশক-ব্যাপী হওয়া এই গবেষণায় বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশের ৮ হাজারেরও বেশি বিজ্ঞানী যুক্ত ছিলেন।’

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

‘বিদেশ যাওয়ার জন্য রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার মুচলেকা দেবেন বেগম জিয়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক: বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার জন্য নতুন করে আবেদন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার ভাই শামীম ইস্কান্দারের করা এই আবেদন এখন আইন মন্ত্রণালয়ে

নজরুলের ‘জাতি’ পরিচয় কী?

যে যুগে নজরুলের জন্ম, সেই যুগে বড় একটি প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছিল ‘জাতি’ পরিচয়। আরও একটি শব্দের মোড়লিপনা ছিল, সেটি হলো ‘জাত’। নজরুল লিখেছেন, ‘জাতের

যশোর জেনারেল হাসপাতাল ধারণক্ষমতার তিনগুণ শিশু রোগী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ

ভর্তি রোগীদের পাশাপাশি চাপ বেড়েছে বহির্বিভাগে জেমস আব্দুর রহিম রানা: সারা দেশের মতো যশোরেও বেড়েছে শীতের তীব্রতা। একইসঙ্গে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগ। এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের

গালি দিতে মাইক ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে প্রশাসনকে চিঠি’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একটি বিশেষ সংবাদমাধ্যমকে গালি দিতে চান এক যুবক, এমনই অদ্ভুত আবেদন নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেন তিনি। দুই ঘণ্টা ধরে মাইকে গালি দেয়ার আবেদন

১৪৮ দিন পর রাজপথে মির্জা ফখরুল’

নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ ১৪৮ দিন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার (২৫ মার্চ’) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনে রাজধানীতে

শাহজাদপুরে যমুনার ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তরা পেল নতুন বসতবাড়ি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার খুকনি, জালালপুর ও কৈজুরি ইউনিয়নের যমুনা নদীর ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তরা নতুন বসতবাড়ি পেয়ে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে। তারা এখন স্ত্রী সন্তান