
নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। বৃহস্পতিবার গণভবনে ১৪ দলের সঙ্গে সভা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন যে, দেশের অংশ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। স্পষ্টতই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইঙ্গিত করে এই কথাগুলো বলেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ডোনাল্ড লু’র বাংলাদেশ সফরের পর সরকারি মহলে যে মার্কিন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে যে স্বস্তির ভাব লক্ষ্য করা গিয়েছিল, এ সফরের পরপরই তা আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মনোভাব নিয়ে নতুন করে সংশয় এবং উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চায় তাদের মত করে। সম্পর্ক উন্নয়ন নয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসলে বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্র এবং পরিসর বাড়াতে চায়। বাংলাদেশের কাছ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কিছু চাওয়া রয়েছে। এগুলোর ব্যাপারে একটি দর কষাকষি করার জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে কূটনৈতিক মহল মনে করে।
যেসব বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে আগ্রহী, তার মধ্যে রয়েছে।
১. বোয়িং বিক্রি
বাংলাদেশ বিমান বেশ কিছু উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে এবং এই উড়োজাহাজ কেনার জন্য ইতোমধ্যে এয়ারবাসের প্রতি এক ধরনের আগ্রহ দেখানো হয়েছে। এয়ারবাস এবং বোয়িং এর মধ্যে বাংলাদেশে উড়োজাহাজ বিক্রি নিয়ে এক ধরেনের প্রতিযোগিতাও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মার্কিনভিত্তিক বোয়িং যেন বাংলাদেশ কিনে সেজন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস নির্বাচনের আগেই বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। নতুন সরকার গঠিত হবার পর তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ফারুক খানের সাথেও সাক্ষাৎ করেন। বোয়িং কেনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে একটি প্রচ্ছন্ন চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও সরকারের বিভিন্ন মহল মনে করছে।’
২. তেল গ্যাস উত্তোলন
ইতোমধ্যে গভীর সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র উন্মুক্ত করেছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এই দরপত্রের জন্য আগ্রহীদেরকে আগ্রহ ব্যক্ত করার জন্য বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো এই দরপত্রে অংশগ্রহণ করছে। এখানে তারা হিস্যা চায় এবং এখানে তেল-গ্যাস উত্তোলনের ক্ষেত্রে মার্কিন কোম্পানিগুলো যেন প্রধান্য পায় সে ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা দৃশ্যমান। উল্লেখ্য, এই দরপত্রে তেল-গ্যাস উত্তোলনের জন্য চীন এবং ভারতের কোম্পানিও আগ্রহ দেখিয়েছে।
৩. ড. ইউনূস ইস্যু
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে একের পর বিভিন্ন মামলাগুলো হচ্ছে। তিনি বর্তমানে একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে আদালত থেকে জামিন নিয়ে আছেন। সামনের দিনগুলোতে অর্থ পাচারসহ আরও বিভিন্ন মামলায় ইউনূসের দণ্ডিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ইউনূসের ইস্যুতেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে এবং সরকার যাতে ইউনূসের ব্যাপারে নমনীয় হয়, সে কারণে প্রচ্ছন্নভাবে মার্কিন প্রশাসন চাপ সৃষ্টি করছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
৪. চীনের সঙ্গে সম্পর্ক
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্র প্রসারিত হয়েছে। চীন ক্রমশ বাংলাদেশের প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। আর এই চীনের সঙ্গে সম্পর্কের লাগাম টেনে ধরার জন্যই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উপর বিভিন্ন ধরনের চাপ দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন।
এখন দেখার বিষয় এই সমস্ত বিষয়গুলোতে সরকার কীভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে খুশি করে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দুই দেশের সম্পর্ক অটুট রাখে, বাংলাদেশের স্বার্থ্য সংরক্ষণ করে।’