
ওয়াসিম শেখ.সিরাজগঞ্জ: জীবনে যে কত বড় ভূল করেছি ভালোবেসে বিয়ে করে চিরকুট লিখে আত্মহত্যা করেছে রাবেয়া (২১) নামের এক গৃহবধূ। আজ শুক্রবার (১৮ অক্টোবর)। সকাল ৭ টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের কোনাগাঁতী পশ্চিমপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রাবেয়া সয়দাবাদ ইউনিয়নের কড্ডা গ্রামের মো. মজিবর রহমানের মেয়ে।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, চার বছর আগে সয়দাবাদ ইউনিয়নের কোনাগাঁতী পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিক এর ছেলে মো. রাকিবুল ইসলামে’র সাথে প্রেম করে বিয়ে হয় নিহত রাবেয়ার। বিয়ের পর থেকেই স্বামী মাঝে মাঝেই নির্যাতন করত গৃহবধু রাবেয়াকে। সংসার জীবনের অধিকাংশ সময়ই ছিল নানা নির্যাতনের শিকার। এছাড়াও স্বামী রাকিবুলের বাড়ির পাশে পশু ডাক্তারের চেম্বার করে একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক করারও অভিযোগ আছে।
তবে নিহত রাবিয়ার স্বামী মো. রাকিবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মাঝে মাঝে ঝগড়া হত মার ধরও করতাম এটা অস্বীকার করবো না। তবে গতকাল অথবা আজকে আমার স্ত্রীর সাথে কোন ঝগড়া অথবা মারধোর করি নাই। আমার রাতে একা থাকতে কষ্ট হয় যে হে তু প্রেম করে বিয়ে করেছি। আমার স্ত্রীরও কষ্ট হয় গতকাল বেলকুচি গিয়েছিল সেখান থেকে নিয়ে এসেছি তাই আমার উপরে অভিমান করেই আত্মহত্যা করেছে। হত্যা সম্পর্কে বলেন, আমরা দুজন একসাথেই ঘুমিয়ে ছিলাম রাতে কখন উঠে আত্মহত্যা করেছে আমি জানিনা। আমি যখন সকাল ৭ঃ৩০ ঘটিকায় ঘুম ভাঙ্গে দেখি ঘরের ঝরনার সাথে ঝুলে রোবট হয়ে আছে। তখন আমি ও আমার মা মিলে ছুরি দিয়ে উরনা কেটে নামিয়ে মেঝেতে শুয়ে রাখি।
তবে নিহতর পরিবারের অভিযোগ রাবিয়াকে হত্যা করে ওড়না দিয়ে পাশের ঘরে ঝুলিয়ে রেখেছে স্বামী ও তার পরিবার।
নিহত লাশটি ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের রাখা মর্গে রাখা আছে। কালকে ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর হত্যা-না-আত্মহত্যা বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে।
আত্মহত্যার ঘটনাটি নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, থানার পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে রয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে আইন গত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’