
অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং তেহরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার পর সংঘাত বিস্তৃত হওয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনে বড় ধাক্কা লেগেছে।
ট্যাংকার ট্রাফিক বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সোমবার একদিনেই এলএনজি জাহাজের দৈনিক ভাড়া ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে যায় বলে জানিয়েছে এলএনজি শিপিংয়ের মূল্য নির্ধারণী সংস্থা ‘স্পার্ক কমোডিটিস’।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আটলান্টিক রুটে এলএনজি ট্যাংকারের দৈনিক ভাড়া সোমবার দাঁড়িয়েছে ৬১ হাজার ৫০০ ডলারে। আগের দিনের তুলনায় এটি ৪৩ শতাংশ বা ১৮ হাজার ৭৫০ ডলার বেশি। একই দিনে প্যাসিফিক রুটেও ভাড়া বড় আকারে বেড়েছে। সেখানে দৈনিক ভাড়া ৪১ হাজার ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বা ১২ হাজার ৭৫০ ডলার বেশি।
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি বাড়লে বীমা খরচ ও নিরাপত্তা ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পায়; আবার জাহাজকে অপেক্ষা করতে বা বিকল্প পথে ঘুরতে হলে সময় ও জ্বালানি ব্যয়ও বাড়ে। ফলে জাহাজ মালিকরা তাৎক্ষণিকভাবে ভাড়া সমন্বয় করেন এবং সেই চাপ শেষ পর্যন্ত আমদানিকারক ও ক্রেতাদের ওপর পড়ে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজে ট্যাংকার ট্রাফিক যদি আরো দীর্ঘসময় বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে এলএনজি সরবরাহের সময়সূচি বিঘ্নিত হতে পারে এবং স্পট মার্কেটে দামের ওপর চাপ বাড়তে পারে। সংঘাত দীর্ঘ হলে শিপিং খরচ, বীমা প্রিমিয়াম ও জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বগতি একসঙ্গে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
ইরানি হামলার মধ্যে গত সোমবার এলএনজি উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কাতার এনার্জি। বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় এলএনজির হিস্যা দৈনিক ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যার বড় সরবরাহকারী কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা কাতার এনার্জি। দেশে প্রতি বছর যে পরিমাণ এলএনজি আমদানি হয় তার ৪০ শতাংশ সরবরাহ করে এ সংস্থা। দীর্ঘমেয়াদে কাতার এনার্জির এলএনজি উৎপাদনসংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকলে তা দেশের গ্যাস খাত থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাপনায় বড় প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন জ্বালানিসংশ্লিষ্টরা।











