মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি’ একটি ভুঁইফোড় সংগঠন: ফয়েজ তৈয়্যব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেলকে গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আবার সকালে তাঁকে বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ’- নামে যে সংগঠনের নামে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করার কথা ছিল সেটি একটি ভুঁইফোড় সংগঠন। এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

সাংবাদিক মিজানুর রহমান সোহেল জানিয়েছেন, আজ দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ মোবাইল বিজনেস কমিউনিটির এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্টার) বিষয়ক একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। তিনি এই সংগঠনের পরামর্শক ছিলেন।

এ নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত জানিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। নিচে তাঁর পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

একজন সাংবাদিককে ডিবির জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে অপপ্রচার চলছে আজ সকাল থেকে। সবার আগে আমি স্পষ্টভাবে এবং জোরালো ভাষায় বলছি—ওই সাংবাদিককে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় আমার কোনো ধরনের ভূমিকা নেই। এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এখন কেন হঠাৎ করে এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে—সেই প্রেক্ষাপটটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

বিটিআরসি সম্প্রতি অবৈধ মোবাইল ফোন আমদানি, চোরাচালান, চুরি, জালিয়াতি এবং শুল্ক ফাঁকি রোধে এনইআইআর (NEIR) চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশে বৈধভাবে ফোন উৎপাদনকারী বিনিয়োগকারীরা বহুদিন ধরেই এ উদ্যোগ চেয়ে আসছিলেন। আজ দেশে অ্যাপল ছাড়া প্রায় সব বড় বৈশ্বিক ব্র্যান্ডেরই কারখানা রয়েছে।

এনইআইআর ঘোষণার পরপরই অবৈধ আমদানিকারক ও স্মাগলার সিন্ডিকেট বিভিন্ন মার্কেটে বহিরাগত দিয়ে বিক্ষোভ, দেশীয় ব্র্যান্ডের শোরুমে হামলা, কর্মচারীদের হুমকি—এসব তৎপরতা শুরু করে। তারা NEIR নিয়ে অনেক অপপ্রচারও করছে।

একটি বিষয় স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—বর্তমানে যে মোবাইল ফোন আপনি ব্যবহার করছেন—সেটি বৈধভাবে কেনা হোক, অবৈধভাবে কেনা হোক বা বিদেশ থেকে আনা হোক—কোনোটিই বন্ধ হবে না। আপনার ব্যবহৃত চলমান হ্যান্ডসেট বন্ধ হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কা সম্পূর্ণ ভুল।

শুধুমাত্র ১৬ই ডিসেম্বর এর পর থেকে অবৈধ আমদানিকারকদের মাধ্যমে দেশেই চোরাপথে আনা নতুন হ্যান্ডসেটগুলো বাংলাদেশে নেটওয়ার্কে কাজ করবে না। এর বাইরে সাধারণ ব্যবহারকারীর কোনো ফোন বন্ধ হবে না। আপনার কেনা হ্যান্ডসেটটি বৈধ বা অবৈধ কিনা তার যাচাই আপনি শোরুম থেকে জাস্ট একটি এসএমএস এর মাধ্যমে করতে পারবেন

আরেকটি বিষয়—যে কেউ বিদেশ ভ্রমণে নিজের ব্যবহারের ফোনের বাইরে একটি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন সাথে আনতে পারবেন।

গত সপ্তাহে এই চক্রের কয়েকজন প্রতিনিধি আমার সাথে দেখা করতে চাইলে আমি খুবই স্পষ্টভাবে দুটি শর্ত দিই—

১. দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শোরুমে হামলা, বন্ধ করা ও হুমকি বন্ধ করতে হবে।

২. এনইআইআর বিরোধী সব কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

আমি আরও বলেছিলাম, তারা যদি এই দুই শর্ত মানে, তাহলে বৈধ ফোন আমদানির শুল্ক কমাতে এনবিআরকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করব। তারা এরপর আর যোগাযোগ করেনি।

এরপর গতকাল সাংবাদিকদের কাছে প্রেস কনফারেন্সের নিমন্ত্রণের একটি চিঠি আসে—“Addressing Regarding NEIR Implementation” শিরোনামে—যেখানে মোহাম্মদ আসলাম নামে একজন নিজেকে “মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ” নামের একটি সংগঠনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন। কিন্তু এই সংগঠনটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিওটিতে নিবন্ধিত নয়। পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়, অবৈধ আমদানিকারক চক্রই ভুঁইফোঁড় পরিচয়ে নতুন এক সংগঠন বানিয়ে এনইআইআর বিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে। আসলামের ফোন নাম্বার যে নাম্বার দেয়া হয় সেটি সেই সাংবাদিকের বলে আমাকে অন্তত হাফ ডজন মানুষ কিছুক্ষণ আগে নিশ্চিত করেছেন। এবং সেই সাংবাদিক নিজেই সাংবাদিকদের এর কাছে সেই প্রেস ইনভিটেশনটি পাঠান।

এই অবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে:

একজন সাংবাদিক কিভাবে কীভাবে একটি ভুঁইফোঁড় সংগঠনের “সভাপতি” পরিচয়ে ভুয়া টাইটেল, ভুয়া পরিচয় ও নিজের ফোন নম্বর ব্যবহার করে স্মাগলিং-অভিযুক্ত গোষ্ঠীর হয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন?

একজন সাংবাদিক কীভাবে চোরাচালান কারবারিদের মুখপাত্র, পিআর এজেন্ট, পরামর্শক বা বেনেফিশিয়ারি হয়ে কাজ করতে পারেন? এটা কি সাংবাদিকতার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে?

সুতরাং, কেউ আইন-এর ঊর্ধ্বে নয়। যে কোনো পেশার মানুষ—যদি নৈতিক সীমার বাইরে গিয়ে কোনো অবৈধ চক্রের সঙ্গে জড়িত হন—তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে পারেন।

তবে আমি মনে করি, এ ধরনের পদক্ষেপ দিনের বেলায়, স্বচ্ছভাবে নেওয়াই সবচেয়ে উপযুক্ত এবং সবার জন্যই নিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করে।

আর, আমি সবাইকে অনুরোধ করছি—অবৈধ আমদানিকারকদের চক্র যেসব ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, সেগুলোতে কান না দিয়ে সতর্ক থাকুন। মূল ইস্যু হলো—অবৈধ ফোন আমদানিকারকরা এনইআইআর বন্ধ করতে এবং বৈধ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এজন্য তারা অনেক অর্থ ব্যয় করছে। তাই আপনারা দেখবেন আমার ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়াতে মিথ্যার ছড়াছড়ি।

পাদটীকা: আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই যে এনবিআর মোবাইল আমদানি শুল্ক ও স্থানীয় উৎপাদনের কর কাঠামো যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনা করুক, যাতে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য হ্যান্ডসেটের দাম আরও কমে আসে। ইতিমধ্যেই আমরা বিটিআরসির মিটিং এ বিষয়টি তুলেছি এবং এনবিআর চেয়ারম্যান মহোদয়কে জানানো হয়েছে।,

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

বেলকুচিতে শ্রমিক লীগ নেতার বাড়িতে ‘বোমা বিস্ফোরণে’ চরমপন্থি নিহত, ১৩ মাস পর তদন্তে গতি

জহুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের বেলকুচির সাবেক শ্রমিকলীগ নেতা আব্দুল মোতালেবের বাড়িতে ‘বোমা বিস্ফোরণের’ আলোচিত ঘটনায় চরমপন্থী সদস্য ফজলু হক নিহতের ঘটনার মূল ‘মাস্টারমাইন্ডরা’ এখনও

নিক্সন চৌধুরী গ্রেফতার, যা জানা গেলো

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফরিদপুরের সাবেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছে। এমন দাবির সঙ্গে নিক্সন চৌধুরীর একটি

যিনি ঘুষ গ্রহীতা তিনি করবেন ঘুষ দাতার বিচার, ইলিয়াসের স্ট্যাটাস

ঠিকানা টিভি ডট প্রেস: আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে বিচারকের কাছ থেকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত করছেন আসিফ নজরুল নিজেই। যিনি ঘুষ গ্রহীতা তিনি

চাঁদা দাবি করায় বগুড়ায় জনতার হাতে পুলিশ কনস্টেবল আটক, উদ্ধার করল সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ার শাজাহানপুরে চাঁদা দাবি এবং হয়রানির অভিযোগে রুহুল আমিন (৩২) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে জনতা আটক করে গণধোলাই দিয়েছে। পরে খবর পেয়ে সেনাবাহিনী

যশোরে আজহারীর মাহফিলে মানুষের ঢল, পদদলিত হয়ে আহত অন্তত ৫

যশোর প্রতিনিধি: যশোরে মিজানুর রহমান আজহারীর ওয়াজ মাহফিলে গিয়ে পদদলিত হয়ে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছে। আজ শুক্রবার রাতে শহরতলি পুলেটহাটের আদ-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ডাকাতের ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারানো সেনা কর্মকর্তা নির্জনের পরিবার পেল ফ্ল্যাট

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডাকাতের ছুরিকাঘাতে নিহত সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট তানজীম ছারোয়ার নির্জনের বাবা-মায়ের হাতে ঢাকার একটি ফ্ল্যাটের চাবি হস্তান্তর করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পূর্বাচল জলসিঁড়ি