আপনার জানার ও বিনোদনের ঠিকানা

‘ভারতের সাহায্য পেলেন না ড.ইউনূস’

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিজের মামলা, দুর্নীতির অভিযোগ থেকে বাঁচার জন্য ভারতের সাহায্য চেয়েছিলেন ড. ইউনূস। ভারতে ড. ইউনূসের বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে। বিশেষ করে মাইক্রোক্রেডিটের বিভিন্ন কার্যক্রম রয়েছে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে। ভারতের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গেও ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ড. ইউনূস বেশ কয়েকবার ভারতে গিয়ে সামাজিক ব্যবসার ওপর বক্তব্য দিয়েছেন। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন সামাজিক ব্যবসা নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। আর এ কারণেই বাংলাদেশে তার অপকর্ম ঢাকার জন্য তিনি ভারতের সহায়তা চেয়েছিলেন। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা দেশগুলো যত দ্রুত ড. ইউনূসের বিষয়ে তার পক্ষে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়েছেন, ভারত তেমনটি করেনি। বরং ভারত পুরো বিষয়টিকে আদালত এবং আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে অপেক্ষার নীতি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ড. ইউনূস শ্রম আদালতের একটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং এই কারাদণ্ড থেকে বাঁচার জন্য তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন নিয়ে আছেন। অন্যদিকে দুর্নীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ তদন্ত করে সেই তদন্তের চার্জশিট দাখিল করেছে আদালতে। চার্জশিট দাখিলের দাখিল করার পরপরই ড. ইউনূস সেই মামলা থেকে জামিন নিয়েছেন।’

অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু কর ফাঁকির মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সেখানে তিনি একের পর এক মামলায় হারছেন এবং যে সমস্ত করগুলো ফাঁকি দিয়েছিলেন, সেই করগুলো তাকে পরিশোধ করার জন্য হাইকোর্ট নির্দেশনা দিচ্ছে। আর এসব থেকে বাঁচার জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে ইউনূস সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল গ্রহণ করেছিলেন এবং সেই কৌশলের অংশ হিসেবেই ড. ইউনূস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী নীতি নির্ধারকদের কাছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কাছে, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের সরকারের বিরুদ্ধে একগাদা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছিলেন। শুধু যে এই সমস্ত দেশের নীতি নির্ধারকদের কাছে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম গিবত গেয়েছেন তা না, তিনি এই ধরনের অপপ্রচার দেশের ভিতরেও এখন শুরু করেছেন। বিশেষ করে তিনি এখন বাংলাদেশের বেশ কিছু গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন এবং এ সাক্ষাৎকারগুলোতে তিনি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ইত্যাদি বড় বড় নীতি কথা বলছেন। তার মামলা থেকে দৃষ্টি অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য।

ড. ইউনূস মনে করছেন, সরকারকে যদি চাপে রাখা যায় তাহলে সরকার হয়তো তার সঙ্গে সমঝোতা করবে। কিন্তু ইউনূসের ব্যাপারে সরকার শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি নিয়ে এগোচ্ছে। ইউনূসের সঙ্গে কোনরকম সমঝোতা নয়, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এমন একটি অবস্থানে আছে সরকার। যার ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বক্তব্য-বিবৃতি, বিভিন্ন নোবেলজয়ী ব্যক্তিদের বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশিত বিবৃতি, বারাক ওবামা কিংবা হিলারি ক্লিনটনের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার পরও সরকার তার স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেনি। বরং ইউনূস যেন এই আইনি প্রক্রিয়া মোকাবেলা করেই অগ্রসর হন, সে ব্যাপারেই তাকে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এমন বাস্তবতায় ড. ইউনূস ভারতের প্রভাবশালী বিজেপি ঘনিষ্ঠ থিঙ্ক ট্যাঙ্কদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন এবং তাদেরকে তিনি তার বিরুদ্ধে হয়রানি বন্ধের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ভারত মামলার প্রক্রিয়াগুলো অবলোপন করছেন এবং পর্যবেক্ষণ করে এ ব্যাপারে কোনো প্রকাশ্য বিবৃতি দেয়নি।

ভারত মনে করে যে, আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়ায় চলা উচিত এবং বিচারাধীন বিষয় নিয়ে আগাম মন্তব্য করাও ঠিক না। আর এ কারণেই ড. ইউনূস ইস্যুতে ভারত একেবারেই মাথা ঘামাচ্ছে না। ফলে ভারতের কাছ থেকে সাহায্য পেলেন না ড. ইউনূস। আর এতে করে তার আইনি প্রক্রিয়াগুলো আরও জটিল এবং দুর্গম হয়ে গেল।’

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়ায় নিজ বাড়িতে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী’

বাংলা পোর্টাল: দুই দিনের সফরে নিজ এলাকা গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১৩ জানুয়ারি’) সকালে সেখানে পৌঁছে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। পরে

শকুনের দোয়ায় গরু মরে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম, ১৬ জানুয়ারি ২০২৪: পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘বিএনপি-জামাত দেশকে বিপদে ফেলার জন্য সব সময়

‘জলদস্যুদের থেকে জাহাজ দখলে নিল ভারতীয় নৌবাহিনী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সোমালিয়ার জলদস্যুদের কাছ থেকে জাহাজ দখলে নিয়েছে ভারতের নৌবাহিনী। এসময় ১৭ জন ক্রু সদস্যকেও উদ্ধার করেছে তারা। এছাড়া অভিযানের সময় জাহাজটিতে থাকা ৩৫

অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে সব মামলা চলবে ট্রাইব্যুনালে : হাইকোর্ট

অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইনের ধারা ৯, ১৩ ও ১৪ এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ে আদালত বলেছেন, অর্পিত সম্পত্তি

‘বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ জুড়ে অনেক কিছুই প্রথমবারের মতো’

ঠিকানা টিভি ডট প্রেস: ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে অনেক নতুন কিছুর সাক্ষী হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্ব। বদলে যাবে অনেক কিছুই। অনেক কিছুই হবে প্রথমবারের মতো। যেমন-

জাপার কেন্দ্রীয় যে ২ নেতাকে অব্যাহতি’

ঠিকানা: জাতীয় পার্টি (জাপা’) থেকে কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত দুই নেতা হলেন দলের কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়।