বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা সর্বনিম্নে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে নতুন বিনিয়োগ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। শিল্প ও ব্যবসা খাতে প্রত্যাশিত বিনিয়োগ না আসায় অর্থনীতিও স্থবির হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাত থেকে ঋণের চাহিদা ইতিহাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে কোনো নতুন কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে তা কমে দাঁড়ায় ১৭ লাখ ৪২ হাজার ৬৩৪ কোটিতে। অর্থাৎ এক মাসে ঋণ স্থিতি কমেছে ৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। এতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত তিন অর্থবছর ধরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে। এর ফলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে লক্ষ্য ছিল ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে লক্ষ্য কমিয়ে ৭ দশমিক ২ শতাংশ করা হলেও জুলাইয়ে সেই ধারা অর্জিত হয়নি।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) জানিয়েছে, ব্যবসায়ীদের অনাগ্রহ, উচ্চ সুদহার, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণনীতিই এ পরিস্থিতির কারণ। একই সময়ে উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। নতুন অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা আগের বছরের তুলনায়ও কম। রাজস্ব আয়েও লক্ষ্যমাত্রার ঘাটতি রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, নতুন প্রকল্প বা সম্প্রসারণ নয়, বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন প্রধান লক্ষ্য। ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং বাড়তি কর-ভ্যাট এ খাতের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ব্যাংকাররা জানান, আমদানির ধীরগতি এবং সরকারি বিল-বন্ডে লাভজনক বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় নতুন ঋণ বিতরণ সীমিত হয়ে পড়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, শুধু বেসরকারি নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত চার ব্যাংকের ঋণ স্থিতিও কমেছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঋণ স্থিতি ছিল ৩ লাখ ১২ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা, যা ছয় মাসে কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৪ হাজার ২২৬ কোটিতে।

পুঁজিবাজারেও একই ধরনের স্থবিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৬০ হলেও দেড় বছর ধরে কোনো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) আসেনি। গত এক বছরে মাত্র ১২টি কোম্পানি ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইপিওর সঠিক মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির অভাব, কর বৈষম্য ও আস্থাহীনতা উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক ও পুঁজিবাজারে পুঁজি প্রবাহ না বাড়লে বেসরকারি খাতে নতুন বিনিয়োগ আসবে না, ফলে অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিও ব্যাহত হবে।

 

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল

নিজস্ব প্রতিবেদক: এই মুহূর্তে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ

শীর্ষ তিন পদেই এগিয়ে শিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের এখন পর্যন্ত ১২টি হলের ফলাফল ঘোষণা করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এতে শীর্ষ তিন পদেই শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ

আমার সোনার বাংলা’ গাওয়া নিয়ে আসামে তোলপাড়: রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত ‘আমার সোনার বাংলা’ একটি কংগ্রেসের অনুষ্ঠানে গাওয়া নিয়ে আসামের রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার জেরে বুধবার (২৯ অক্টোবর)

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা ফেরতে গেজেট প্রকাশের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত শরিয়াভিত্তিক ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর আমানতকারীরা নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী

বাঁশখালীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই মাদকসেবীর কারাদণ্ড

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি: গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাঁশখালীর পূর্ব পাইরাং গ্রামের বড় পুকুরপাড় ও আব্বাসপাড়া এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় দুই জনকে মাদকসেবনরত

এবার পালাবেন কোথায় কাদের? থাকতে পারবেন না ১৯৫ দেশে!

ডেস্ক রিপোর্ট: ২৪ জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো শেখ হাসিনা সরকারের একাধিক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী