আজ সোমবার ,২৭শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৮শে জিলকদ, ১৪৪৩ হিজরি (বর্ষাকাল)

রাত ৪:৫৬

সাহায্য-সহযোগীতা করার মন-মানসীকতা তৈরী করা

- Advertisement -
- Advertisement -

গভীর রাত, চারপাশ নিস্তব্ধ। ঠিক এ সময়ে এক বড়লোকের বাড়িতে প্রবেশ করলো এক চোর। চোরটি ঘরে প্রবেশ করে কিছুক্ষন স্থির থেকে চুপিচুপি মালিকের শিয়রের পাশ থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলতে যায়। এর মাঝেই চোরের হাত থেকে চাবিটা মাটিতে পড়ে ঝনাৎ শব্দ করে ওঠে। (moral story)

গভীর রাত, চারপাশ নিস্তব্ধ। ঠিক এ সময়ে এক বড়লোকের বাড়িতে প্রবেশ করলো এক চোর। চোরটি ঘরে প্রবেশ করে কিছুক্ষন স্থির থেকে চুপিচুপি মালিকের শিয়রের পাশ থেকে চাবি নিয়ে আলমারি খুলতে যায়। এর মাঝেই চোরের হাত থেকে চাবিটা মাটিতে পড়ে ঝনাৎ শব্দ করে ওঠে। (moral story)

সে শব্দে আতম্কিত হয়ে জেগে ওঠেন মালিক। আর বলতে থাকলো, কে? কে?…

 

চোর নিরুত্তর হয়ে আছে। সোজা দরজা আটকিয়ে দাঁড়ান মালিক এবং চাকরকে বাতি আনতে নির্দেশ দেন।  চাকর বাতি নিয়ে এলে মালিক চোরকে দেখতে পান। তিনি দেখেন লোকটির বয়স চল্লিশের উর্ধ্বে,  বিষন্ন মুখে তার অসহায়তার চাপ। (educational story in bengali)

মালিক জিজ্ঞেস করেন,  কে তুমি…? এখানে কেনো এসেছ..? চোর তখন কিছুই বলল না। সে নিরুত্তর। পরক্ষণেই চোরটির চোখ থেকে অঝোরে অশ্রু ঝরতে লাগলো। কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলো,  হুজুর, আজ দুদিন হয়ে গেলো স্ত্রী, পুত্র-কন্যাদের নিয়ে উপোস।  অবশেষে নিরুপায় হয়ে চুরি করতে এসেছি। বিশ্বাস করেন আমি জীবনে কখনো আর চুরি করিনি, এটাই প্রথম।

 

এ কথা শুনে মালিকের খুব দয়া হলো। তিনি লোকটিকে বললেন, আচ্ছা আর কেঁদো না। আমার সাথে এসো।  এই বলে মালিক তাকে সোনা-দানা, টাকা-পয়সা ভর্তি একটি সিন্দুকের নিকট নিয়ে গেলেন। আর তা খুলে দিয়ে বললেন এখান থেকে তোমার যা যা প্রয়োজন নিয়ে যাও। যতখুশি নাও, তোমার ইচ্ছামত। লোকটি হাত দিতে সাহস পেলো না। মালিক আবার বললেন তোমার যা প্রয়োজন তা নাও। তারপর সে অল্পকিছু টাকা হাতে নিলো। (short story on educational)

মালিকঃ কত টাকা নিলে..?
চোরঃ বিশ টাকা।
মালিকঃ মাত্র বিশ টাকা…?
চোরঃ হুজুর, আমার পরিশোধ করার ক্ষমতা মত নিতে হবে তো..?
মালিকঃ না, না, তোমাকে পরিশোধ করতে হবে না। যত খুশী নিয়ে নাও।
চোরঃ হুজুর,  তাহলে যে ঋনী থেকে যাই, নাহ আমি পরিশোধ করে দিবো। হুজুর, আপনার দয়ার কথা কোনোদিন ভুলবো না।
মালিকঃ আচ্ছা, যখন তুমি এই টাকাটা দান হিসেবে গ্রহন করতে অসম্মত তখন না হয় তোমার অবস্থা ফিরলে ফেরত দিও।

এরপর মালিক লোকটির সাথে চোরের বাড়িতে গেলেন। গিয়ে দেখেন, সত্যিই তার ছেলেটি জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকছে। আর তারই পাশে ছেলেটির মা জীর্ণ-শীর্ণ নোংরা একটি কাপড় পড়ে ঘুমিয়ে আছে।  অপর একটি ছেলে ও মেয়ে মাটিতে পড়ে ঘুমোচ্ছে।

দয়াবান মালিকটি এই করুন দৃশ্য দেখে অশ্রু ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি লোকটির পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন, দুঃখ করো না, ভাই। তোমার যখন যা প্রয়োজন হয় আমাকে জানাবে। আমার থেকে প্রয়োজন মত অর্থ কড়ি নিয়ে এসে তোমার ছেলে-মেয়েদের খাবার, জামা-কাপড় ও ঔষুধ-পথ্য কিনে দিও। এই বলে মালিক চলে এলেন।

তোমারদেরকে এতক্ষণ যেই দয়াবান ব্যক্তির গল্প শোনালাম,  কে এই মহান ব্যক্তি..?

এই ব্যক্তি হলেন দানবীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন। অগণিত ধন-সম্পদে মালিক ছিলেন তিনি।  কিন্ত নিজের জন্য তার তেমন কিছুই ব্যয় করেননি। অপরের দুঃখে দুঃখী হয়ে সাহায্য সহযোগিতা করাই ছিলো তার জীবনের ব্রত। (islamic story for kids)

এই বিখ্যাত দানবীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন ১৮১২ সালে ২৯ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। এই মহান ব্যক্তি তার সকল সম্পদ দেশের শিক্ষার জন্য দান করে গেছেন।

 

তার এই কৃতকর্মের জন্য মানুষ তাকে খুব ভালোবাসে। সম্মান-শ্রদ্ধা করে। এমন ব্যক্তিকে কোনোমানুষ কোনোদিন ভুলে থাকতে পারে না। তার এই কাজ আমাদের মনে সাহস জোগায়, শক্তি জোগায়। আমাদের মনে জাগিয়ে দেয় এক শক্তিশালী অনুপ্রেরণা। যা আমাদেরকে শিখায় কীভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়। তাদের দুঃসময়ে ও বিপদে কীভাবে তাদের নিকট সাহায্যের হাত বাড়াতে হয়। কীভাবে তাদের মনে জায়গা করে নিতে হয়। এই ভালোবাসাই তো প্রকৃত ভালোবাসা। এই সুখই তো প্রকৃত সুখ। (true islamic story)

-এই গল্পের শিক্ষনীয় বিষয় হলো-

ক্ষমা করতে শিখাঃ-  ক্ষমা হলো মহৎ গুণ। ক্ষমার মাধ্যমে মানুষের বড় মনের পরিচয় পাওয়া যায়। আর আল্লাহ তা’আলাও ক্ষমাকারীকে ভালোবাসেন।

উক্ত গল্পে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন তার ঘরে চুরি করতে আসা চোরকে ক্ষমা করে তিনি বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। তার এই মহৎ গুণাবলি ক্ষমার জন্য চোরটি তার ভূল বুঝতে পেরে সে সৎ পথে ফিরে এসেছে। তাই আমাদের তার এই গুণাবলি অর্জন করতে হবে।

 

সাহায্য-সহযোগীতা করার মন-মানসীকতা তৈরী করাঃ-  উল্লেখিত গল্পে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন তিনি তার ঘরে চুরি করতে আসা চোরকে ক্ষমা করে তাকে তার প্রয়োজন মতো টাকা-পয়সা, অর্থ-কড়ি প্রদান করেন। এবং পরবর্তীতে তার কোনো কিছুর অভাব হলে তাকে জানাতে বলেছেন। এই যে সাহায্যের একটা মন-মানসিকতা তার ছিলো, যা দিয়ে সে মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিয়েছেন। 

তাই এই মন-মানসিকতা আমাদের ও তৈরী করতে হবে। যাতে করে আমরাও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পাই। আর তাদের এই ভালোবাসাই প্রকৃত ভালোবাসা। আর এই ভালোবাসার মধ্যেই রয়েছে জীবনের সাধ ও স্বার্থকতা। যা কোনোদিন হারাবার নয়……।।

- Advertisement -

সর্বশেষ খবরঃ

- Advertisement -

আপনার জন্য আরো খবর

উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে