১০ দিনেও পণ্যবাহী কার্গো ছাড়েনি আরাকান আর্মি

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: দশ দিন পার হয়ে গেলেও কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে আটক পণ্যবাহী একটি কার্গো বোট এখনো ছাড়েনি মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি।

আজ রোববার সকাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার বস্তা বহনকারী বোট আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছে। এর আগে গত সোমবার আরাকান আর্মির হেফাজতে থাকা দুটি কার্গো বোট টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছে।

পণ্যবাহী একটি বোট এখনও ছাড়েনি বলে জানিয়েছেন টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্টের ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘এর আগে দুটি পণ্যবাহী কার্গো বোট আরাকান আর্মির হেফাজত থেকে মুক্তি পায়। এসব পণ্যবাহী খালাস চলমান। তবে দশ দিন পার হয়ে গেলেও তাদের কাছে আরও একটি পণ্যবাহী বোট রয়েছে। সেখানে প্রায় ৩০ হাজার বস্তা বিভিন্ন ধরনের মালামাল রয়েছে।’

এ বিষয়ে টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘আমরা ব্যবসায়ীরা খুব চিন্তিত। কেননা, এখনও একটি পণ্যবাহী কার্গো বোট ছাড়েনি আরাকান আর্মি। সেখানে আমাদের বহু ব্যবসায়ীদের মালামাল রয়েছে। তল্লাশির দশ দিন পার হলেও বড় কার্গো বোট তাদের হেফাজতে রয়েছে। এ ধরনের সমস্য সমাধানে সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করা দরকার। না হলেও ব্যবসায়ীরা টেকনাফে ব্যবসা গুটিয়ে নিবেন।’

স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেড় মাস পর গত ১১ জানুয়ারি মিয়ানমারের ইয়াংগুন থেকে কয়েকজন ব্যবসায়ীর পণ্যবাহী কার্গো বোট টেকনাফ স্থলবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেয়। এরপর ১৬ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় নাফ নদের মোহনায় দেশটির জলসীমায় নাইক্ষ্যংকদিয়া নামক এলাকায় তল্লাশির নামে পণ্যবাহী তিনটি আটকে দিয়েছিল আরাকান আর্মি। এর মধ্যে আচার, শুঁটকি, সুপারি, কপিসহ ৫০ হাজারের বেশি বস্তা পণ্য রয়েছে। এসব পণ্য স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী শওকত আলী, ওমর ফারুক, মো. আয়াছ, এমএ হাসেম, মো. ওমর ওয়াহিদ, আবদুর শুক্কুর সাদ্দামসহ অনেকের।

সর্বশেষ গত সোমবার সকালে সাতুরু এবং এমবি হারিকিউ লেছ নামে দুটি পণ্যবাহী বোট ফেরত আসলেও একটি কার্গো বোট আরাকান আর্মি হেফাজতে রয়েছে। তবে ফেরত আসা বোটে ২৭ হাজার ২২২ বস্তা মালামাল রয়েছে।’

এক বন্দর ব্যবসায়ী বলেন, ‘আরাকান আর্মি এখনও একটি পণ্যবাহী বোট ছাড়েনি। মূলত তল্লাশির নামে বোটে থাকা অনেক মালামাল খালাস করে চেক করছে। তাদের তল্লাশি এখনও চলছে। দুই-একদিনের মধ্য ছেড়ে দেওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। মূলত কার্গো বোটটির মালিক মিয়ানমারের শীর্ষ এক সেনা কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠজন। তার কারনে আরাকান আর্মি চাপ প্রয়োগ দিতে তল্লাশির নামে আটকে রেখেছে। পাশাপাশি আরাকান আর্মি এখন থেকে সীমান্তে বাণিজ্য ভাগ বসাতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে আমদানিকারক কায়েছ এন্টারপ্রাইজের মালিক নুরুল কায়েছ সাদ্দাম বলেন, ‘এখনও একটি পণ্যবাহী কার্গো বোট ছাড়েনি। সেখানে আমারসহ অনেকে বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। এর আগে দুটি পণ্যবাহী বোট ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু এটি কেন এখনও ছেড়ে দেয়নি সেটি বলা মুশকিল।’

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘এখনও একটি পণ্যবাহী কার্গো ছাড়েনি। এটির খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।’

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

চলন্ত বাসে ডাকাতি-শ্লীলতাহানি, ডিবির জ্বালে আরও দুই আসামি-মালামাল উদ্ধার

জহুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও নারী যাত্রীর শ্লীলতাহানির মামলায় টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি)

রাজনীতিতে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে অদৃশ্য শক্তি: তারেক রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে অদৃশ্য শক্তি, আরও সক্রিয় হচ্ছে ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্রকারীরা। তাদের মোকাবেলা করতে হলে সবাইকে

টাঙ্গাইলে এনসিপির পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের যেতে বাধ্য করায় বিক্ষোভ

জহুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার: টাঙ্গাইলে জাতীয় নাগারিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের যেতে বাধ্য করার প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিন্দুবাসিনী সরকারি

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন সাংবাদিক দেব চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক: ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় ক্রিকেট বিশ্লেষক দেব চৌধুরী। শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর দারুসসালাম শাহী মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে তিনি কালিমা পাঠের

ভূমিকম্পের পরও যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে বিমান হামলা চালাচ্ছে জান্তা সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে যখন হিমশিম খাচ্ছে জান্তা সরকার তখনও যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির কিছু অংশে বিমান থেকে বোমা

মাত্র ৪৫ দিনের জ্বালানি মজুত, ঘনীভূত সংকটের আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে বর্তমানে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ টন জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে, যা দিয়ে দেশের মাত্র ৪৫ দিনের চাহিদা পূরণ সম্ভব।