
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সেচ প্রকল্পের জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আলম প্রামানিক (৫৫) নামে এক বিএনপি কর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৫-৬জন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার সাতবিলা ফসলি জমির মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত আলম প্রামানিক সাতবিলা গ্রামের মৃত গফুর প্রামানিকের ছেলে।
গুরুত্বর আহত অন্যরা হলেন মৃত বাহাদুরের ছেলে মোবারক (২৫), মৃত রয়েজ মন্ডলের ছেলে শুকুর মন্ডল (৫২), মৃত আলিমুদ্দিনের ছেলে শওকত (২৮) ও সোবাহান মন্ডলের স্ত্রী আদুরী (৩৫)।
হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার সময় আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার মাথায় ১৭-১৮টি সেলাই করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কা মুক্ত নন, চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
আহত আলম প্রামানিক জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসা করার উদ্দেশ্যে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর কোনো প্রশ্নোত্তরের সুযোগ না দিয়েই এলাংজানী গ্রামের চকপাড়া এলাকার জামায়াত কর্মী জব্বার সরদারের নির্দেশে জামায়াতের লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় অংশ নেয় একই এলাকার মৃত তফেল সরদারের ছেলে জব্বার সরদার (৬৫), শামীম সরদার (৩৫), আমিন সরদার (৩০), হযরত সরদারের ছেলে রমজান সরদার (৪০), মন্টু সরদার (৪২) এবং মৃত তফেল সরদারের ছেলে রানা সরদার (৫৫)।
আহতর ছেলে আলিফ জানান, জব্বার সরদার ও শওকতের শ্যালো স্কিম (সেচ) প্রকল্পের আওতাভুক্ত আবাদি জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার সকালে আলম প্রামানিক নিজ জমিতে চাষাবাদ করছিলেন। এ সময় শওকত বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাকে ডেকে নেয়। পরে জব্বারের ছেলের ফোনে সেচ প্রকল্প এলাকায় যেতে বলা হয়। সেখানে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে জব্বার সরদারের নির্দেশে একদল লোক রড, বাঁশ ও লাঠি নিয়ে আলম প্রামানিক, মোবারক, শুকুর ও আদুরীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে আলম প্রামানিকের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। অন্যদেরও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। এক পর্যায়ে আলমসহ অন্যান্যরা অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়।
এসময় আলম প্রামানিকের নিকট আত্মীয় জানান, উল্লাপাড়া থানা যুব জামায়াতের সেক্রেটারী আলামিন নির্দেশ দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে। আমরা হামলার শিকার হয়েছি, এখন পুলিশ দিয়ে আমাদেরই হয়রানির হুমকি দিচ্ছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার সময় আলমের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার মাথায় একাধিক সেলাই করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত থাকলেও চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











