নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ স্টেশন বাজারে ঘোল তৈরির দুটি কারখানায় ভেজাল দুধ ব্যবহার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদনের অভিযোগে মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ৩৩০ লিটার ভেজাল ও নিম্নমানের দুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
বৃহস্পতিবার ৫ মার্চ বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সলপ স্টেশন বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সলপ ঘোল ঘর নামে দুটি কারখানায় দুধ পরীক্ষা করা হয়। মো. আব্দুল মালেকের কারখানায় নিরাপদ খাদ্য অফিসার মিল্ক অ্যানালাইজার মেশিনের মাধ্যমে আটটি দুধের নমুনা পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে চারটি নমুনা গ্রহণযোগ্য হলেও বাকি চারটিতে ভেজাল ও নিম্নমানের দুধের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় কারখানা থেকে ৩৩০ লিটার ভেজাল ও নিম্নমানের দুধ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানে আরও দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দুধ সংরক্ষণ ও ঘোল উৎপাদন করা হচ্ছিল এবং বোতলে কোনো ধরনের লেবেলিং ছিল না। এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থায় মো. আব্দুল মালেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে মো. আব্দুল খালেকের কারখানায় দুটি দুধের নমুনা পরীক্ষা করা হলে তা গ্রহণযোগ্য মাত্রার মধ্যে পাওয়া যায়। তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ঘোল উৎপাদন এবং বোতলে লেবেল না দেওয়ার কারণে তাকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ জানান, দুধের বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠা বা ঘোল তৈরির আগে দুধ বিভিন্নভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ দুধে অতিরিক্ত পানি, ফ্যাট বাড়ানোর জন্য পাম ওয়েলসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হতে পারে এবং কখনও ফরমালিন থাকার সম্ভাবনাও থাকে।
তিনি আরও জানান, ভোক্তাদের খাদ্যপণ্য কেনার সময় পণ্যের লেবেল, বিএসটিআই অনুমোদন, প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে কেনার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.