নিজস্ব প্রতিবেদক সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবিতে ঈদের পর আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। তারা অভিযোগ করেছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংস্কার পরিষদ গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন না করে সরকার টালবাহানা করছে।
জোটটির নেতারা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন ও অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা মানা হয়নি। একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না দিয়ে বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত বহন করে বলে তারা মনে করেন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ১১টি সিটি করপোরেশন ও ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
১১ দলীয় ঐক্যের দাবি, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালিত না করে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে দলীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ঈদের পরও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হলে তারা রাজপথে কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন বলে জানিয়েছেন নেতারা।
প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন স্তরের স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা অনুপস্থিত হয়ে পড়েন। সে সময় অন্তর্বর্তী সরকার সাময়িকভাবে প্রশাসক নিয়োগ দেয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনের পরিবর্তে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে জোটটি।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। তবে এর মধ্যেই প্রশাসক নিয়োগের ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, প্রশাসক নিয়োগের এই পদক্ষেপ স্থানীয় সরকার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার অংশ হতে পারে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে বিতর্কিত নির্বাচনের পূর্বাভাস বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রশাসনের সব স্তরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা উপেক্ষা করা হচ্ছে। পরাজিত প্রার্থীদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনাকেও তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা অভিযোগ করেছেন, সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে নিয়োগনির্ভর কাঠামোয় নিয়ে যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিও।
জানা গেছে, ঈদের পর আগামী ২৮ মার্চ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। ওই বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা হতে পারে। নেতারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ধাপে ধাপে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.