
জাতীয় সংসদের অধিবেশন রোববার শুরু হচ্ছে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এসব অধ্যাদেশ অনুমোদন পেতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোট, জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত বিধান।
জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা অধ্যাদেশে দায়মুক্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে আদালতে চ্যালেঞ্জ উত্থাপিত হলেও তা খারিজের সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ধরনের বিধান সংসদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়কে গণঅভ্যুত্থান হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না এবং ওই সময়ের ঘটনাবলিতে দায়মুক্তির পরিসর কী হবে, তা নির্ধারণে সুস্পষ্ট আলোচনা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচিতভাবে বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে তা প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের মতে, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে এমন কাঠামো প্রয়োজন, যা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারসাম্যপূর্ণ হবে এবং পূর্ববর্তী সময়ের কর্মকাণ্ডের বিপরীত ধারার প্রতিফলন ঘটাবে। তিনি গণভোটের প্রশ্নাবলিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন।
গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশে একাধিক বিষয় একটি প্রশ্নে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে সরকারি দলের আপত্তি রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টিকে সংসদে জটিল বলে উল্লেখ করেছেন, যা অধিবেশনে আলোচনার সময় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো তুলনামূলকভাবে কম বিতর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সংসদে সরকারি দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে কোন অধ্যাদেশে কতটুকু সংশোধন আনা হবে, তা তাদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী মনে করেন, সংসদ সদস্যদের উচিত হবে প্রতিটি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করা এবং গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে আইনগুলো পরিশোধিত করা।
আইন অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অধ্যাদেশগুলো পাস না হলে সেগুলোর কার্যকারিতা বাতিল হয়ে যাবে। ফলে রোববার থেকে শুরু হওয়া অধিবেশনে স্বল্প সময়ের মধ্যে কতগুলো অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি পায়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।











