
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ২ নম্বর রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরোনো ভবনটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘ ৫০ থেকে ৬০ বছর আগে নির্মিত এ ভবনে এখনও নিয়মিতভাবে পরিষদের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে সময়ের পরিক্রমায় ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হয়ে পড়েছে, যা কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবা নিতে আসা সাধারণ জনগণের জন্য মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বুধবার (৪ মার্চ) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ছাদে চির ধরেছে, দরজা-জানালার কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম মৌসুমে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে দেয়াল ও ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ফলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের ব্যবহৃত কক্ষসহ পরিষদের হলরুমে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, নতুন একটি ভবন নির্মিত হলেও পুরোনো ভবনটি বর্তমানে পরিষদের অনুদান ও বিভিন্ন উপকরণ সংরক্ষণের গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু ভবনটির বর্তমান অবস্থা এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে সেখানে মালামাল সংরক্ষণ করাও নিরাপদ নয়। তিনি বলেন, আমরা পুরো পরিষদ চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করেছি এবং বরাদ্দের জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
চেয়ারম্যান আরও জানান, ভবনটির একটি কক্ষ হলরুম হিসেবে, একটি কক্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তার দপ্তর হিসেবে, একটি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য এবং একটি কক্ষ অনুদানের মালামাল রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া একটি পরিত্যক্ত কক্ষও রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনের সার্বিক অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় ভেঙে পড়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি ঘটার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
প্রশাসনিক কর্মকর্তা কল্পনা খাতুন বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। এটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। জনবান্ধব সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
তিনি আরও জানান, পরিত্যক্ত ভবনগুলো অপসারণ বা সংস্কার করা গেলে শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না, বরং পরিষদের স্থায়ী আয়ের উৎসও সৃষ্টি হতে পারে, যা স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, জনসেবামূলক এমন একটি প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত সংস্কার কিংবা নতুন বিকল্প ভবন নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন জাহান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভবনটি মেরামতের প্রাক্কলন করে স্থানীয় সরকার বিভাগে পত্র দেয়া হয়েছে। গত বছরের জুলাই মাসে।বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।











