
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের বিভিন্ন কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা দুই হাজার ৬১৮ জন। হাইকোর্টে বর্তমানে এক হাজার ১৭৯টি ডেথ রেফারেন্স মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আপিল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব ও বিচারক সংকটের কারণে এ মামলাগুলো বছরের পর বছর ঝুলে আছে।
শিশু আছিয়া হত্যা মামলা
মাগুরায় শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স চলতি বছরের ২১ মে হাইকোর্টে পৌঁছেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, অন্য তিনজন আসামি খালাস পান। এখন মামলাটি উচ্চ আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
মামলার জট
বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে হাইকোর্টের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। কিন্তু নিষ্পত্তির হার আশানুরূপ নয়। স্বাধীনতার পর থেকে গত ২১ বছরে ডেথ রেফারেন্স মামলা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০০৪ সালে মামলার সংখ্যা ছিল ৪৩৯, যা ২০২৪ সালে দাঁড়ায় ১,২১২-তে। তবে নিষ্পত্তির হার ক্রমেই কমছে। ২০২৪ সালে নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ৫৮টি মামলা এবং ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়েছে মাত্র ১৩টি।
বিচারক সংকট
হাইকোর্টে বেঞ্চ সংখ্যা বাড়ানো হলেও বিচারক সংকট কাটেনি। অনেক বিচারক মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে আগ্রহী নন। আইনজ্ঞদের মতে, দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি নিয়োগ বাড়ানো, নিজস্ব প্রেসে পেপারবুক তৈরি এবং ধারাবাহিকভাবে শুনানি পরিচালনা জরুরি।
কারাগারের চিত্র
হাইকোর্টে দাখিল করা কারা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কারাগারগুলোতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা দুই হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে নারী বন্দি আছেন ৬৩ জন। কনডেম সেলের সংখ্যা দুই হাজার ৬৫৭, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সেল রয়েছে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে। সেখানে এক হাজার সেলে বন্দি রয়েছেন ৯৫১ জন। স্বাধীনতার পর থেকে এখনো কোনো নারী আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়নি।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট
বর্তমানে বিশ্বের ৫৫টি দেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৪০০-র বেশি আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, ইরান ও জাপানসহ কয়েকটি দেশে ফাঁসির মাধ্যমে সাজা কার্যকর হয়। সৌদি আরব, ইরান ও পাকিস্তানে শিরশ্ছেদ বা পাথর নিক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে লেথাল ইনজেকশন বা বৈদ্যুতিক চেয়ার ব্যবহার করা হয়।
বিশেষজ্ঞ মত
আইনবিদদের মতে, মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা আসামিদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারকে হতাশ করে। তাদের পরামর্শ, ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চ বাড়ানো, বিচারপতি নিয়োগ ত্বরান্বিত করা এবং ধারাবাহিক শুনানি নিশ্চিত করা ছাড়া বিকল্প নেই।