
নিজস্ব প্রতিবেদক মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের জমা দেওয়া সনদ ও তথ্য যাচাইয়ে অন্তত ৮ হাজার জনের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যাচাইয়ের সময় প্রতি ১০০ জনের মধ্যে গড়ে ৭ থেকে ৮ জনের তথ্যে গরমিল বা ভুল পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে যাচাই প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃতভাবে চালানো হচ্ছে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। একই বছরের ১৪ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। তবে যাচাই কার্যক্রম এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী ১৪ মার্চ জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে পাঠানো তথ্যে অসঙ্গতি থাকায় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পুনরায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রাথমিক যাচাই শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে পরিবীক্ষণের কাজ চলছে। জনবল সংকটের কারণে প্রক্রিয়াটি শেষ করতে সময় লাগছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগসহ নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সরকারি কর্ম কমিশনের কাছে তথ্য চায়। যাচাই শেষে দেখা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ক্যাডার ও নন-ক্যাডার মিলিয়ে ৯০ হাজার ৫২৭ জন সরকারি চাকরিতে রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যাঁদের সনদ বা তথ্য অসত্য প্রমাণিত হবে, তাঁদের তালিকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পাঠানো হবে। তবে চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল।
যাচাই প্রক্রিয়ায় ৩৮টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। পরে ৭৬৯ জনের কাছ থেকে পুনরায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বর্তমানে ৯০ হাজার ৫২৭ জনের মধ্যে ৬৭ হাজারের তথ্য পরিবীক্ষণ শেষ হয়েছে এবং বাকি অংশের কাজ শেষ করতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।
অতীতে ভুয়া সনদের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে। ৩৫তম বিসিএসে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি করা হয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
২০১৪ সালে পাঁচজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই করে তা বাতিল করা হয়। তাঁদের মধ্যে তৎকালীন স্বাস্থ্যসচিব নিয়াজ উদ্দিন মিয়া, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব এ কে এম আমির হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল কাসেম তালুকদার ছিলেন।
সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, ভুয়া সনদধারীদের তালিকা প্রকাশে বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে, তবে রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ তথ্য প্রকাশ জরুরি।











