
ঠিকানা টিভি ডট প্রেস: মিয়ানমারের রাখাইনে চলমান সংঘাত থেকে জীবন বাঁচাতে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি) ও সেনাবাহিনীর শতাধিক সদস্য পালিয়ে টেকনাফে এসে বিজিবির কাছে আশ্রয় নিয়েছে। গত দুই দিনে মিয়ানমার থেকে ধাপে ধাপে তারা টেকনাফে প্রবেশ করে। বুধবার সকালে ২০ জন এবং বৃহস্পতিবার ১১৯ জন মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্য আশ্রয় নেয়।
বিগত কিছুদিন ধরে মিয়ানমারের রাখাইনের সীমান্ত শহর মংডু টাউনশিপ দখলে নিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সামরিক জান্তার মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে’। মংডু জেলার অধিকাংশ এলাকা ইতোমধ্যেই আরাকান আর্মির দখলে চলে গেছে। বর্তমানে মংডু টাউনশিপ দখলের জন্য লড়াই চলছে। সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, আরাকান আর্মি মংডু টাউনশিপ ঘিরে রেখেছে। সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি ও বিস্ফোরণের বিকট শব্দে টেকনাফের সীমান্ত এলাকা কেঁপে উঠছে। যুদ্ধে টিকতে না পেরে মিয়ানমারের সেনা ও বিজিপি সদস্যরা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন ধাপে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং, শাহপরীর দ্বীপ ও নাজিরপাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার সেনা ও বিজিপি সদস্যরা নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। পরে তাদের নিরস্ত্র করে বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যরা হেফাজতে নেয়। তবে এ বিষয়ে বিজিবি ও কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আদনান চৌধুরী বলেন,’নতুন করে মিয়ানমারের সেনা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা এপারে আশ্রয় নিয়েছে বলে শুনেছি। তারা বিজিবি ও কোস্টগার্ডের হেফাজতে রয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি’) অধিনায়ক লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন,সীমান্তের স্থল ও জলসীমায় সার্বক্ষণিক বিজিবির সদস্যরা টহল দিচ্ছে। মিয়ানমারের এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে।’