
আলতাফ হোসেন শামীম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
মানুষ বিভিন্ন কারণে মানসিক সমস্যায় ভোগেন। আর এই মানসিক সমস্যার কারণে সৃষ্টি হয় নানা রকম শারীরিক জটিলতা। সবার ক্ষেত্রেই যে সমস্যা এক রকম হয় তা কিন্তু নয়। মানসিক চাপ থেকে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম শারীরিক লক্ষণ প্রকাশ পায়। মানসিক চাপ বেড়ে গেলে অতিরিক্ত ঘুমভাবের প্রবণতা দেখা দেয়। এটাকে বলা হয়ে থাকে স্ট্রেস- বেসড-ফ্যাটিগ তথা মানসিক চাপ থেকে শারীরিক ক্লান্তি দেওয়া। ২০১৫ সালের অ্যামেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী অন্তত ৩২ শতাংশ মানুষ মানসিক চাপের দরুন ক্লান্তি ও ঘুমভাবের লক্ষণ প্রকাশ করে।
কেউ মানসিক চাপ বা স্ট্রেসে থাকলে তার আচরণে যেমন পরিবর্তন দেখা যায়, তেমনি বেশ কিছু শারীরিক লক্ষণও থাকে।
স্ট্রেসের শারীরিক লক্ষণগুলো হলো; কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই মাথা বা ঘাড় ব্যথা করতে থাকা, সারাদিন ঝিমুনিভাব, ঘাড়, বুক, গাল ও গলার আশপাশের পেশি শক্ত হয়ে থাকা ইত্যাদি।
মানসিক চাপে থাকলে হজমের বা পায়খানার সমস্যা, বমি বমি ভাব হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে পেট মুচড়ে সারাদিন অল্প পরিমাণে পায়খানা হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার ঘটনাও দেখা যায়।
বুকে ব্যথা বা বুক ধড়ফড় করাও মানসিক চাপের লক্ষণ। আবার কখনও দেখা যায়, ছোট ছোট জিনিস বারবার ভুলে যাচ্ছেন। এ ছাড়া কোনো কাজে বারবার মনোযোগ হারিয়ে ফেললে, দৈনন্দিন ছোট ছোট কাজে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলে আপনি স্ট্রেসে আছেন বলে ধরে নিতে পারেন।
মানসিক চাপ মানুষের দৈনিক জীবনের রুটিনেও আনতে পারে পরিবর্তন। দেখা যাবে, একেবারে কিছুই খেতে ইচ্ছে করছে না বা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি খাচ্ছেন। একইভাবে ঘুমের সময়েও পরিবর্তন আসবে। মেজাজ সারাক্ষণ খিটখিটে থাকা কিংবা হুট করে রেগে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে, অনেকে নির্দিষ্ট কিছু মানুষকে এড়িয়ে চলছে অথবা এসব অনুভূতি থেকে পালাতে ধূমপানের মতো অভ্যাসের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
করণীয় : স্ট্রেস থেকে বেরিয়ে আসার প্রথম ধাপ হলো, কথা বলা। কাছের বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজের মানসিক অবস্থার কথা আলোচনা করুন। মনকে হালকা রাখার চেষ্টা করুন।
আগে থেকে পরিকল্পনা করুন। আগামীকালের ছোট ছোট কাজগুলো সাজিয়ে রাখুন নিজের মতো করে। কর্মচঞ্চল থাকা। নিয়মিত ব্যায়াম, হাঁটাহাঁটি করলে শরীর এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে, যা মানুষকে প্রফুল্ল রাখবে।
এছাড়া নিজের যত্ন নেওয়া, পরিচ্ছন্ন থাকা, নিয়মিত গোসল করা, নতুন কোনো কিছু শেখা, একটু গল্পের বই পড়া বা জানালার ধারে টবে গাছের যত্ন নেওয়ার মতো ছোট ছোট কাজ মানুষকে একটু একটু করে চাপমুক্ত হতে সহায়তা করবে।
বিভিন্ন ধরনের মেডিটেশন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের ভিডিও পাওয়া যায় ইন্টারনেটে। এসব নির্দেশনা অনুসরণ করে ব্যায়াম করলে স্ট্রেসের কারণে শক্ত হয়ে আসা পেশি ও মন দুটোই শিথিল হবে।