অনলাইন ডেস্ক: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর শুরু হওয়া ইরান-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ত্রিপক্ষীয় সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলমান এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত দুই হাজার ৫৩০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও হাজারো মানুষ।
এই সংঘাতে সর্বোচ্চ ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইরান। দেশটিতে এক হাজার ৪৪৪ জন নিহত এবং ১৮ হাজার ৫৫১ জন আহত হয়েছেন। রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনা ঘটেছে।
ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার শিকার হয়েছে লেবানন। গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এসব হামলায় ৯৬৮ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০০ জনের বেশি শিশু। হামলায় শহরাঞ্চল ও বসতিগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরাকেও সংঘাতের প্রভাব পড়েছে। দেশটিতে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের সদস্যসহ অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন।
অপরদিকে, ইসরায়েলের ভূখণ্ডে এ পর্যন্ত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক এবং দক্ষিণ লেবাননে নিয়োজিত দুই সেনাসহ মোট ১৭ জন নিহত হয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নেওয়া সাত সেনাসহ মোট ১৩ জন মার্কিন সেবা সদস্য এই সংঘাতে নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছয়জন ইরাকে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রাণ হারান।
উপসাগরীয় অঞ্চলেও সংঘাতের ছোঁয়া লেগেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুই সেনাসহ আটজন, কুয়েতে দুইজন, ওমানে তিনজন এবং বাহরাইনে দুইজন নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে তিনজন নারী এবং সিরিয়ায় চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ড্রোন হামলায় ফ্রান্সের এক সেনাসদস্য এবং সৌদি আরবেও দুইজন নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সহিংসতা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গভীর হুমকি তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও আঞ্চলিক এই অস্থিরতা প্রশমনের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.