
নিজস্ব প্রতিবেদক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ দুইজন নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। তিনি জানান, পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায় এবং এতে দুইজন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনায় একই গ্রামের বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করা হয়।
পরবর্তীতে কারামুক্তির পর জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত ১৭ মার্চ ইফতারের আগে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে একটি পক্ষ পিছু হটে।
এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান টেঁটাবিদ্ধ হন। তাকে অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। একই ঘটনায় আক্তার মিয়া নামের আরও একজন নিহত হন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী জানান, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত। নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, গুরুতর আহত দুইজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে মসজিদের মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।











