
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের মধ্যেই বিএনপিতে নাটক জমে উঠেছে। কোরবানির ঈদে বিভিন্ন নেতাকে কোরবানি দেওয়ার প্রতিবাদে বিএনপি এখন টালমাটাল। ক্ষোভে ফেটে পড়ছে বিভিন্ন স্থানে বিএনপির নেতৃবৃন্দ। বিশেষ করে যারা রাজপথে থাকেন না, বিভিন্ন টকশোতে যান, সন্ধাবেলা তারেক জিয়ার কাছে সত্য মিথ্যা বানিয়ে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলেন, চাটুকারিতা করেন, নগদ অর্থ প্রেরণ করেন তাদেরকেই দলে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজপথের কর্মীদেরকে মূল্যায়ন করা হয়নি-এমন বক্তব্য এখন বিএনপির টেবিলে টেবিলে।
বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন আড্ডাতে বিএনপির নেতৃবৃন্দদের একটিই কথা চাটুকারিতা, সংস্কারপন্থীরা এবং টকশোতে কথা বলা ব্যক্তিদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যাদের সাথে সরকারের গোপন সম্পর্ক রয়েছে, তারাই আবার টকশোতে যায় এবং এই টকশোর মাধ্যমে তারা একটা পরিচিতি পেয়েছে। এই সমস্ত ব্যক্তিদেরকে দলের নেতৃত্বে সামনে আনা হয়েছে। এরা রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলন করার কোনো যোগ্যতা রাখেনা বলেও তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ মনে করছেন। আর এর ফলে বিএনপিতে এখন গণ পদত্যাগের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকে বিএনপি থেকে পদত্যাগের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।
ইতিমধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক বিষয়ে কঠোর অবস্থান গুলো হালকা হয়ে গেছে। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, যারা উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। কিন্তু এবার তারেক জিয়ার দেওয়ার এই হুমকিতে ভয় পাননি বিএনপির মাঠের নেতারা। তারা তারেক জিয়ার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছে এবং এদের মধ্যে থেকে অন্তত ৩৭ জন বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। আর এর ফলে তারেক জিয়ার যে সমস্ত নির্দেশ এবং হুমকি তা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।’
উপজেলা নির্বাচনের পথ ধরেই এবার বিভিন্ন যে কমিটিগুলো বাতিল করে দেওয়া হয়েছে সেই কমিটিগুলো বাতিল নিয়েও বিএনপিতে এখন উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির অনেক নেতা মনে করছেন যে, এভাবে কমিটি বাতিল করার ফলে দলের দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রাম করা নেতাকর্মীদেরকে অপমান করা হয়েছে। তারেক জিয়ার যদি আন্দোলনের ব্যাপারে আগ্রহী থাকত তাহলে তিনি ঝুঁকি নিয়ে দেশে আসতেন।
গতকাল বিএনপির নয়াপল্টনের কার্যালয়ে তারেক জিয়া দেশে আসুন, আন্দোলনে নেতৃত্ব দিন বা বিদেশ থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সম্ভব নয়-এমন পোস্টার এবং স্লোগান দেখা গেছে। এটি নিয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বিব্রত হন। পরবর্তীতে কয়েকজন নেতার হস্তক্ষেপে এই সমস্ত পোস্টার এবং ব্যানারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে বিএনপির অধিকাংশ নেতৃবৃন্দের মনের কথা এটি। বিএনপির বিভিন্ন জেলা এবং উপজেলার নেতৃবৃন্দ এখন পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
ছাত্রদলের যে কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে সে বিলুপ্ত কমিটির অন্তত ৫০ জন পদত্যাগপত্র লিখে ফেলেছেন এবং তারা আজকালের মধ্যে এই পত্রত্যাগ জমা দেবেন বলে জানা গেছে।’
যুবদলের যারা দায়িত্ব পালন করছিলেন তাদের সাথে ন্যূনতম সৌজন্যতা না দেখিয়ে তাদের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তারাও দল থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে আলাপ আলোচনা করছেন। দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর এবং দক্ষিণের একাধিক নেতা। সব মিলিয়ে বিএনপিতে এখন গণপদত্যাগের মহড়া চলছে, যে কোন সময় গণপদত্যাগের বিস্ফোরণ ঘটবে দলটিতে। আর এর প্রধান কারণ হলো তারেক জিয়ার স্বেচ্ছাচারীতা, দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে একক ভাবে কমিটি গঠন এবং কমিটি বাতিল ইত্যাদি স্বৈরচারী সিদ্ধান্ত। বিএনপির এই গণপদত্যাগ দলটিকে কোথায় নিয়ে যাবে সেটি এখন দেখার বিষয়।’