নিজস্ব প্রতিবেদক দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আজ দেশব্যাপী ঈদ উদযাপন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর সম্মেলন কক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। বৈঠক শেষে তিনি দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। বৈঠকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির ড. মাওলানা মো. আবু ছালেহ পাটোয়ারী।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ নারী মুসল্লির জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, ওজু ও নামাজের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত ওজুখানা এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম রাখা হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা শঙ্কা নেই এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহ ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি থাকবে। প্রবেশপথগুলোতে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ডগ স্কোয়াড ও বিশেষ টিম মোতায়েন থাকবে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র সংলগ্ন পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, মুসল্লিদের জন্য সুশৃঙ্খল পরিবেশে জামাত আয়োজনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিন লাখের বেশি মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। জামাত নির্বিঘ্ন করতে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটি চলছে। সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। হাসপাতাল, কারাগার, শিশু সদন, বৃদ্ধ নিবাসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া ঈদের দিন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য শিশু পার্ক, জাদুঘর, আহসান মঞ্জিল ও লালবাগ কেল্লাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে বিনা টিকেটে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.