
নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে মোট ১০ বার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সাতক্ষীরা অঞ্চলকেন্দ্রিক ৫.৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হয়। অগভীর গভীরতার কারণে এ কম্পন তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় ৩ মাত্রার একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহরের পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল।
৩ ফেব্রুয়ারি রাতে মিয়ানমারকেন্দ্রিক পরপর দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যেগুলোর মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫.৯ ও ৫.২। একই দিন ভোর ৪টা ৩৬ মিনিটে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাকে কেন্দ্র করে ৪.১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এর উৎপত্তিস্থল ঢাকা থেকে প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে।
৯ ফেব্রুয়ারি ভোরে এবং ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এ দুটি কম্পনের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩.৩ ও ৪। ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪৬ মিনিটে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলাকেন্দ্রিক ৪.১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে ৪.৬ মাত্রার আরও একটি কম্পন অনুভূত হয়।
সর্বশেষ ২৭ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অনুভূত ভূমিকম্পের মাত্রা ৫.৪ বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা অঞ্চলে এবং এটি ছিল অগভীর প্রকৃতির। অন্যদিকে ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৩, কেন্দ্র ছিল সাতক্ষীরা জেলা থেকে প্রায় ২৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পূর্বে এবং গভীরতা ছিল ৯.৮ কিলোমিটার।
ফেব্রুয়ারি মাসে ধারাবাহিকভাবে ছোট ও মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় এ ধরনের কম্পন অস্বাভাবিক নয়। তবে ঝুঁকি হ্রাসে অবকাঠামোগত প্রস্তুতি জোরদার, বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা প্রণয়ন জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।











