অনলাইন ডেস্ক: ইরানের তৈরি ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আটকানো প্রায় অসম্ভব বলে উল্লেখ করেছে সামরিক সাময়িকী Military Watch Magazine। সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে ইসরায়েলের উচ্চমূল্যের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত তিনটি সফল আঘাত হেনেছে ক্ষেপণাস্ত্রটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে ফাত্তাহ-২ বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে গতিপথ পরিবর্তন ও কৌশলগত ম্যানুভার করতে সক্ষম। এতে এটি প্রচলিত রাডার ও ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার জন্য জটিল চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
এতে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Rafael Advanced Defense Systems–এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কির বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। তিনি গত আগস্টে এক আলোচনায় বলেন, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সাধারণত লক্ষ্যবস্তুর চেয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে গিয়ে তা ধ্বংস করার নীতিতে কাজ করে। তবে শব্দের চেয়ে প্রায় দশগুণ বেশি গতির (ম্যাক-১০) ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তাত্ত্বিকভাবে আরও বহুগুণ গতির ইন্টারসেপ্টর প্রয়োজন হতে পারে। বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তা বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করা হয়।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগে থেকেই ইরানের পুরোনো মডেলের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় চাপের মুখে ছিল। নতুন হাইপারসনিক প্রযুক্তির সংযোজন সেই চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েল একটি বিশেষ জোনভিত্তিক প্রতিরক্ষা মডেল নিয়ে ভাবছে। তবে এ ধরনের ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় ও বিপুল অর্থব্যয়ের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের ধারণা, ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর সমাধান খুঁজে পাওয়া বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
সূত্র: Press TV
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.