নজরুল ইসলাম: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার হরিনা পিপুলবাড়ী বাজার এলাকায় নাজমুল ইসলাম মিঠু নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কথিত ডাক্তার পরিচয়ে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে ‘মিঠু ডাক্তার’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী দেখছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোগী দেখার জন্য তিনি জনপ্রতি ফি হিসেবে টাকা নিচ্ছেন। এতে প্রতিদিন শুধুমাত্র রোগী দেখার ফি বাবদ প্রায় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছেন। এছাড়া তার নিজস্ব ফার্মেসি থেকে প্রেসক্রিপশনে লেখা ওষুধ কিনতে রোগীদের বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রতিজন রোগীর কাছ থেকে সর্বনিম্ন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র ফার্মেসি থেকেই প্রতি মাসে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।
গত শনিবার (৭ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুটি কক্ষে রোগীদের জন্য বিছানা রাখা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত রোগী দেখছেন তিনি।
রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে তার কাছ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ৬৫ বছর বয়সী রহিমা বেগম বলেন, “ওষুধ কেনার টাকা জোগাড় করতে না পেরে সম্প্রতি বাড়ি বিক্রির টাকায় মিঠু ডাক্তারের চিকিৎসা নিচ্ছি। প্রতি সপ্তাহেই তার দোকান থেকেই প্রায় ১ হাজার থেকে ২ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়।”
রহিমা বেগমের স্বামী ৭০ বছর বয়সী নুর মোহাম্মদ বলেন, “কিডনির ব্যথা কিছু সময়ের জন্য কমলেও এক সপ্তাহ না যেতেই আবার শুরু হয়। প্রতি সপ্তাহেই ডাক্তার সাহেব আসতে বলেন এবং নতুন নতুন ওষুধ লিখে দেন। এতে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার টাকার মতো খরচ হয়।”
হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা আলতাফ নামের এক রোগী বলেন, “শুনেছি এখানে অনেক রোগী আসে, তাই বুকের ব্যথা নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু পরে তার দেওয়া ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে দেখি জ্বর ও মাথা ব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়েছে। এখন মনে হচ্ছে তিনি আসলেই ডাক্তার কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।”
এ বিষয়ে নাজমুল ইসলাম মিঠুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে গেলে প্রথমে তার চিকিৎসা সেবা ও যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে পরিচয় জানার পর তিনি বলেন, আমার কাছে আসতে হলে সিভিল সার্জনের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। আমি সব নিয়ম মেনেই কাজ করি। আমি একজন সিএইচডব্লিউ (CHW) ডিগ্রিধারী। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার কথা, তবে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ২০১৪ সাল থেকে রোগী দেখে আসছি। এর আগেও সিভিল সার্জন অফিস থেকে লোক এসে কোনো ভুল ধরতে পারেনি।
এ সময় সেখানে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ভিড় দেখা যায়। উপস্থিত কয়েকজন কোম্পানি প্রতিনিধি সাংবাদিকদের সন্ধ্যার পর দেখা করার অনুরোধ জানান এবং বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
এদিকে কয়েকজন রোগীর প্রেসক্রিপশন ও শারীরিক অবস্থা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দিয়ে পর্যালোচনা করে জানা যায়, তিনি কোনো স্বীকৃত ডিগ্রিধারী চিকিৎসক নন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন লেখার বৈধতা তার নেই। এছাড়া রোগীদের বয়স অনুযায়ী রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকলেও প্রেসক্রিপশনে বিভিন্ন বাণিজ্যিক ওষুধ লেখা হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দেন।
স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ না করা হলে রাজনৈতিক ও ব্যক্তি স্বার্থে সাধারণ লোকজনকে দিন দিন ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.