
জেমস আব্দুর রহিম রানা: যশোরের ভৈরব নদীর পাড়ে ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পার্কে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী না থাকায় শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পার্কটিতে ঘুরতে আসা শিশুরা যেকোনো সময় নদীর পানিতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছে দর্শনার্থীরা। একই সাথে সুষ্ঠ তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় পার্ক সংলগ্ন নদে ফেলা হচ্ছে নানাবিধ ময়লা আবর্জনা। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করছেন স্বস্থ্য সচেতন মহল।
জানা গেছে, যশোরবাসীর জন্য নতুন এক বিনোদন কেন্দ্র শহরের দড়াটানা মোড়ে ভৈরব নদীর পাড়ে নব নির্মিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো’) পার্ক। সম্প্রতি উদ্বোধন করা হয়েছে এ পার্কটি। পাউবোর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে প্রায় ৮ কোটি টাকা খরচ হলেও পার্কটিতে নেই কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী। উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন ভিড় জমে পার্কটিতে। এরমধ্যে শিশু-কিশোরদের সংখ্যাও বেশি। ফলে যেকোনো সময় নদীর পানিতে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করছে পার্কটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।
সম্প্রতি পাউবোর পার্কটিতে গিয়ে দেখা যায় কয়েকশ দর্শনার্থীর ভিড়। পার্কের গেট থেকে শুরু করে নদীর পার্শ্ব পর্যন্ত বিন্দুমাত্র জায়গা ফাঁকা নেই। ছোট শিশু-কিশোরদের নিয়ে দিনের অবসর সময় কাটাতে এ পার্কটিতে ভিড় করেছেন অনেকেই। অবসর সময় কাটানোর পাশাপাশি নদীর পাড়ে ওয়াকওয়ে ধরে হাঁটতে এসেছেন বৃদ্ধরাও। শিশুরা খোলা পরিবেশে এদিক সেদিক ছোটাছুটি করছে। নদীর পাড় থেকে শিশুদের সাবধান করতে পিছু পিছু ছুটতে হচ্ছে অভিভাবকদেরও।
পার্কটিতে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, সৌন্দর্য্যবর্ধন পার্কটিতে কোনো কিছুরই কমতি না থাকলেও রয়েছে নদীর পাড়ের নিরাপত্তার ঘাটতি। যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুরা ছোটাছুটি করতে করতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
পার্কটিতে পরিবার নিয়ে প্রথমবারের মতো ঘুরতে আসে শহরতলীর খয়েরতলা এলাকার ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, প্রথমবারের মতো ঘুরতে এসেছি। এর আগে ছবিতে দেখেছি। পার্কটি অনেক সুন্দর হয়েছে। তবে শিশুদের এখানে নিয়ে আসা ঝুঁকি। নদীর পাড়ের এই পার্কটিতে এখন পর্যন্ত কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই। শিশুরা ছোটাছুটি করতে করতে নদীর পানিতে পড়লে দুর্ঘটনা ঘটবে। একই সাথে সুষ্ঠ তদারকি ব্যবস্থা না থাকায় পার্ক সংলগ্ন নদে ফেলা হচ্ছে নানাবিধ ময়লা আবর্জনা। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
যশোর সিটি কলেজপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আসিফ বলেন, ছেলেকে নিয়ে পার্কে ঘুরতে এসেছি। শিশুরা সারাদিন বাসায় আটকা থাকে। ফাঁকা পরিবেশ পেলে ওদের আটকে রাখা যায় না। পার্কে এসে সব শিশুর মতো ও ছোটাছুটি করছে। নদীর পাড়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই এজন্য খেয়ালে রাখতে হচ্ছে। যাতে করে নদীর কিনারে না যায়।’
রেলগেট এলাকার বাসিন্দা মিলন রহমান বলেন, পাউবোর এ পার্কটিতে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা বেষ্টনী দরকার। নিরাপত্তা বেষ্টনী না দিয়ে পার্ক খুলে দেওয়া উচিত হয়নি। কোনো শিশু দৌড়ে গিয়ে ঢালু জায়গা দিয়ে গড়িয়ে পানিতে পড়লে দুর্ঘটনা ঘটবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব নদের দুই প্রান্তে দড়াটানা ব্রিজ থেকে বাবলাতলা ব্রিজ পর্যন্ত এক কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে দড়াটানা ব্রিজ থেকে গরীবশাহ (র.) মাজার পর্যন্ত ২০০ মিটারে নদের পাড়ের সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ করা হয়েছে। যেটি মূলত এখন পাউবোর পার্ক। আর এই কাজের জন্য ব্যয় করা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে জানানো হয়েছে পার্কটির নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, আমি যোগদান করার পর বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। পার্কটিতে নদীর পার্শ্ববর্তী নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য ১১ লাখ টাকা ব্যয় ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, এসএস পাইপ দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হবে। যাতে করে নির্বিঘ্নে পার্কের দর্শনার্থীরা ও শিশুরা ঘোরাফেরা করতে পারে। বিশেষ দিন ব্যাতিত প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পার্ক খোলা থাকবে। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পার্কটি সংরক্ষণ ও দেখভালের দায়িত্ব পাউবো পালন করছে।’