রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পন্টুনে ওঠার সময় যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১০ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে পানির নিচে থাকা বাসটি উদ্ধার করার পর একে একে মরদেহগুলো বের করা হয়।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকারী দল জানায়, বাসটির দরজা ভেঙে গেছে। ভেতর থেকে স্কুলব্যাগ, জুতা-স্যান্ডেল, ভ্যানিটি ব্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভেসে উঠতে দেখা গেছে। উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তিনটি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পরিচয় শনাক্ত হওয়া যাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন কুমারখালী থেকে ওঠা গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং তাদের সন্তান আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)। গিয়াস উদ্দিন খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঈদের ছুটি শেষে তারা ঢাকায় নিজ কর্মস্থলে ফিরছিলেন।
এছাড়া খোকসা থেকে ওঠা দেলোয়ার (৩০), তার স্ত্রী এবং তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান ইসরাফিল এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুজ্জামান (৩২), তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার (৩০) এবং সন্তান নওয়ারা আক্তার (৪) ও আরশান (৭ মাস) ওই বাসে ছিলেন। এদের মধ্যে আয়েশা আক্তার ও শিশু আরশান এখনও নিখোঁজ। গিয়াস উদ্দিনের কন্যা আয়েশাও উদ্ধার হয়নি।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. মনির হোসেন জানান, বাসটিতে নারী-শিশুসহ প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী বাসটি তিন নম্বর ঘাটে ফেরির জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় ‘হাসনা হেনা’ নামের একটি ছোট ফেরি পন্টুনে ধাক্কা দিলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।
ঘটনার পর জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.