
নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাহী আদেশে জামায়াতকে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিষিদ্ধের প্রক্রিয়া চলছে, যে কোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। জামায়াতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, সহিংসতা এবং রাজনৈতিক উস্কানি দেওয়া, দেশে বিভক্তি সৃষ্টির অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি হিসাবে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি উত্থাপিত হয়ে আসছিল। কিন্তু এবার ১৪ দলের বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জামায়াত নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
জামায়াতের দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথম নিষিদ্ধের ঘটনা নয়। এর আগেও জামায়াত একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছিল। পাকিস্তান আমলে জামায়াতের দুবার নিষিদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছিল। সাম্প্রদায়িক উস্কানি দেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক বিভক্তি সৃষ্টি এবং ইসলামকে বিকৃত করা, মওদুদিবাদ প্রচারের জন্য পাকিস্তান আমলে দুবার জামায়াত নিষিদ্ধ হয়।
১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। বাহাত্তরের সংবিধানে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার যে অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল, তার আলোকে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে এবারের জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।’
২০০৮ সালে নির্বাচনী ইশতেহারে আওয়ামী লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গীকার করেছিল। সেই অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এবং সেই অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা দণ্ডিত হন। এখন যখন জামায়াত নতুন করে সংঘটিত হয়েছে এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতারা দণ্ডিত হবার পরও জামায়াত তৃণমূল পর্যন্ত তার সংগঠন বিস্তৃত করে নতুন ভাবে দল গুছিয়েছে, তখন তারা সরকারের বিরুদ্ধে নাশকতা এবং সহিংসতার এক ব্লু প্রিন্ট করে। সেই ব্লু প্রিন্টের বাস্তবায়ন করা হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের নামে সারা দেশে তাণ্ডব চালিয়ে।
জামায়াতের এই তাণ্ডবের পর সকলে নড়েচড়ে বসে। বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের পৃষ্ঠপোষক সংগঠনই শুধু নয়, বিভিন্ন জঙ্গি এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের ও পৃষ্ঠপোষক বটে। আর এ কারণেই যুদ্ধাপরাধীদের ট্রাইবুনালে বিচারের সময় জামায়াত নিষিদ্ধের দাবি উঠেছিল। বিশেষ করে যুদ্ধাপরাধের শিরোমনি গোলাম আজমের বিচারের পর জামায়াতকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছিল। এখন সেই দাবি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
তবে জামায়াতের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখা গেছে যে, তারা নিষিদ্ধের ঘটনা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। জামায়াতের একাধিক নেতা বলেছেন যে, তারা এমনিতেই নিষিদ্ধ। যেহেতু জামায়াত নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন নয়, তারা দলীয় প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন না, কাজেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তারা উপেক্ষিত, নিষিদ্ধ। জামায়াত এই নিষেধাজ্ঞাকে মোটেও পাত্তা দিতে চাইছে না।
জামায়াত মনে করছে, এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। বরং এই নিষেধাজ্ঞার মধ্য দিয়ে জামায়াত আরও সংঘটিত হবে বলে তারা মনে করছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন যে, জামায়াতকে রাজনৈতিক ভাবে নিষিদ্ধ করা হলে তার সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দেওয়া হবে। নাৎসি পার্টির যেমন কোনও কর্মকাণ্ড চলতে পারে না এবং নাৎসি করা দণ্ডনীয় অপরাধ ঠিক তেমনি এখন যদি কেউ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয় বা প্রমাণ পাওয়া যায় তিনি জামায়াতের রাজনীতি করছেন তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে আইনি ভিত্তি পাবে।
তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনীতির অন্তর্ঘাত বাড়তে পারে। জামায়াতের সহিংসতা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধি পেতে পারে। কারণ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ইতোমধ্যে জামায়াতের বেশ কিছু শেপাদার সহিংস সন্ত্রাসী আছে। তারা এখন নতুন করে বিভিন্ন কার্যক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।’