
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভক্তি তীব্র আকার ধারণ করেছে। সরকার ঘোষিত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা হয়নি। বিএনপির অবস্থান, সনদের সাংবিধানিক বিষয়গুলো পরবর্তী সংসদের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দল চাইছে জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তি দিয়ে তার ভিত্তিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণসহ একাধিক ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এ প্রেক্ষাপটে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে—জুলাই সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন ও রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের আইনি স্বীকৃতি।
অন্যদিকে এনসিপি, এবি পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদও পৃথক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জোটের ঘোষণা নেই, তবে বিএনপির বিপরীতে তারা একত্র হচ্ছে কি না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিএনপি এসব কর্মসূচি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, এসব আন্দোলন সরাসরি সরকারের উদ্দেশ্যে হলেও প্রকৃত দ্বন্দ্ব মূলত বিএনপির সঙ্গেই। জুলাই সনদ, পিআর পদ্ধতি এবং জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধকরণের মতো বিষয়ে তাদের অবস্থান ভিন্ন। বিএনপি আশঙ্কা করছে, পাল্টা কর্মসূচি দিলে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা না হলে বিভক্তি আরও গভীর হতে পারে। এতে সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকি বাড়বে এবং নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।











