
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ১নং ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) মো. ওমর ফারুক তালুকদারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নাগরিক সনদ প্রদানের অভিযোগ তদন্তে অনিয়ম, জাল নথি প্রস্তুত এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রভাবিত করার চেষ্টার প্রমাণ পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বুধবার (২৮জানুয়ারি) কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপাশা হোসাইন ওমর ফারুকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার জেলার উখিয়ায় অবস্থিত রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরের এক ব্যক্তিকে নাগরিক সনদপত্র প্রদানের অভিযোগ তদন্তকালে মো. ওমর ফারুক তালুকদার স্বজ্ঞানে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তদন্তের গতিপথ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা দাপ্তরিক গোপনীয়তা লঙ্ঘন করে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র প্যানেল চেয়ারম্যানের বাসায় স্থানান্তরে সহযোগিতা করেন, যা গুরুতর প্রশাসনিক অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত।
সহকারী কমিশনার (ভূমি), কামারখন্দ কর্তৃক দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিষয়টি স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর ৩৪(খ) ধারায় অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম একই বিধিমালার ৪০(১) ধারা অনুযায়ী মো. ওমর ফারুক তালুকদারকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ভদ্রঘাট ইউনিয়নে যোগদানের আগেও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৪নং শিয়ালকোল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মো. ওমর ফারুক তালুকদারের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) এমনকি জেলা প্রশাসককে পাশ কাটিয়ে এককভাবে নানা সিদ্ধান্ত নিতেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা, অন্যের ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার, নামে-বেনামে প্রকল্প দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধন, ভারতীয় নাগরিককে জন্ম নিবন্ধনে সহায়তা, টিসিবি কার্ডের অর্থ আত্মসাৎসহ দুই ডজনেরও বেশি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ইউপি সদস্যদের তিন মাসের বেতন আত্মসাৎ এবং সাত মাসের বেতনের স্থলে মাত্র চার মাসের বেতন পরিশোধের অভিযোগ নিয়েও ব্যাপক অসন্তোষ দেখা দেয়। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে বেতন শিটে স্বাক্ষর থাকলেও বাস্তবে কম অর্থ পরিশোধের তথ্য উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রকাশের পর কাগজপত্র ‘ঠিকঠাক’ করে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এইসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত না করে গত বছরের ৯ জুলাই প্রশাসনিক নির্দেশে ওমর ফারুককে শিয়ালকোল ইউনিয়ন থেকে বদলি করে কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নে পদায়ন করা হয়।
এদিকে সচেতন মহল বলছেন, ওমর ফারুকের সাময়িক বরখাস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত না হলে প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তারা দাবি করছেন, শুধু বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত নয় তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হোক। সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী যেন এ ধরনের অপরাধে যুক্ত থাকার সাহস না পায়।











