
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাচিল গ্রামে আজিদা বেগম পেলেন নতুন ঘর। আজ বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) তার কাছে ঘরটি হস্তান্তর করা হয়। আজিদা বেগমের ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে। স্বামী মারা গেছেন বেশ কয়েক বছর আগে। তার পাশে দাঁড়াতে মানবিক কর্মী শাহ আলম সরকার নতুন ঘর নির্মাণের জন্য তার ফেসবুক প্রোফাইলে আজিদা বেগমের সমস্যা তুলে ধরে পোস্ট করেন।
ফেসবুকের পোস্ট দেখে দেশ-বিদেশের ডোনার ও তার বন্ধু টাকা পাঠাতে থাকেন। এরপর ইয়াসিন সরকার চতুরের মাধ্যমে কাঠ-দরজা জিনিসপত্র পেয়ে থাকেন।
গত রবিবার সকালে সমাজকর্মী শাহীন আলম ভাইয়ের সহযোগিতায় আজিদা বেগমের ঘরের কাজ শুরু করেন। গতকাল বুধবার ঘরের কাজ শেষ।
আজ সাড়ে ১১ টার দিকে ঘরটি আজিদা বেগমের কাছে হস্তান্তর করা হয় ও ১৫ দিনের জন্য খাদ্য সামগ্রী কিনে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, কৈজুরী মহিউল ইসলাম সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেক, মাওলানা আমির হামজা, সমাজকর্মী মো: শাহীন আলম, সাংবাদিক ইয়াহিয়া খান, শেখ জাহিদ, মানবিক কর্মী ও সাংবাদিক শাহ আলম সরকার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মানবিক কর্মী ও সাংবাদিক শাহ আলম সরকার বলেন, ২০২৩ সালে আজিদা খালার ঘর-বাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এরপর থাকার মত জায়গায় বা ঘর ছিল না। তাকে নিয়ে ইয়াসিন সরকার চতুর ফেসবুকে পোস্ট দেন। সেই পোস্ট দেখে আমি আজিদা খালার কাছে আসি। তার সমস্যার বিষয়ে নিয়ে আমি একটি ভিডিও করি। এরপর আমার ফেসবুক প্রোফাইল সেই ভিডিও পোস্ট করি। ফেসবুক প্রোফাইল পোস্ট করার পর আমার ডোনার আপু, বন্ধু, ভাইয়েরা এগিয়ে আসেন। এরপর ইয়াসিন সরকার চতুরের মাধ্যমে কাঠ-দরজা জিনিসপত্র পেয়ে শুরু কাজ করি। আজ খালার কাছে ঘরটি হস্তান্তর করলাম।
তিনি আরো বলেন, আমি নদী ভাঙ্গন এলাকার মানুষ। ঘর-বাড়ি বিলীন হওয়ার কষ্ট আমি বুঝি। সেই জন্য আমি বসে থাকতে পারি না। আমি ২০১৭ সাল থেকে এই কাজগুলো করছি। যত দিন বেঁচে থাকবো তাদের পাশেই থাকতে চাই।
২০২৩ সালে আজিদা বেগমের ঘর-বাড়ি যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। থাকার মত তার ঘর ছিল না। দুটি ছেলের মধ্যে একটি ছেলে পাগল। আজিদা বেগমকে দেখার মত কেউ নেই। নিজে কাজ করে যে টাকা পেয়ে থাকেন। সে টাকা দিয়ে তার সংসার চলান।’