আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাঁচ দিন ধরে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ এবং নাগাল্যান্ড ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে। এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় সেনা এবং বিমানবাহিনী (আইএএফ) অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। হেলিকপ্টার থেকে ক্রমাগত পানি ঢালা হচ্ছে, পাশাপাশি স্থলভাগেও বিশেষায়িত সরঞ্জাম দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। জানা গেছে, আগুনের সূত্রপাত ১৩ ফেব্রুয়ারি।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ভারতীয় বিমান বাহিনী (আইএএফ) সামাজিক মাধ্যম এক্স -এ দেওয়া এক পোস্টে জানায়, “ভারতীয় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার দুটি ফ্রন্টে দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে, চ্যালেঞ্জিং ভূখণ্ডে নিরলস আকাশ থেকে অগ্নিনির্বাপণ অভিযান পরিচালনা করছে। অরুণাচল প্রদেশের ওয়ালং-এ, মোট ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ লিটার পানি ফেলে আগুন সফলভাবে নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। একই সঙ্গে, নাগাল্যান্ডের জুকৌ ভ্যালিতে এমআই-১৭ ভি৫ হেলিকপ্টার ডিমাপুরের পদুমপোখরি লেক থেকে পানি সংগ্রহ করে কাছাকাছি এলাকায় আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। খাড়া ঢাল, কম দৃশ্যমানতা ও দমকা বাতাসের মধ্যেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, অরুণাচল প্রদেশের আঞ্জাও জেলার প্রায় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত প্রত্যন্ত অঞ্চল ওয়ালং-এ ভয়াবহ বনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য সেনাবাহিনী, আইএএফ হেলিকপ্টারসহ প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সেনাবাহিনীর শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড় জুড়ে ছড়িয়ে পড়া আগুন নেভানোর জন্য হেলিকপ্টার থেকে পানি ফেলছে, এবং স্থলভাগের দলগুলোকে সহায়তা করার জন্য অন্যান্য অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামও দেওয়া হয়।
এর আগে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) আইএএফ এক্স-এ পোস্টে জানিয়েছিল, “ভারতীয় বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারগুলো লোহিত উপত্যকা অরুণাচল প্রদেশে ৯ হাজার ৫০০ ফুটেরও বেশি উচ্চতায় নিরবচ্ছিন্ন আকাশপথে অগ্নিনির্বাপণ অভিযান পরিচালনা করছে। লোহিত উপত্যকার সংকীর্ণ পাহাড়ি রেখা বরাবর হটস্পটগুলোতে একাধিক অভিযানে ১২ হাজার লিটারেরও বেশি পানি সরবরাহ করা হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বাতাসের মধ্যে অভিযান চলছে।”
গুয়াহাটির একজন প্রতিরক্ষা মুখপাত্রের মতে, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং পাহাড়ি উপজাতিদের ঐতিহ্যবাহী ‘ঝুম চাষ’ (জমি পোড়ানোর পদ্ধতি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বনাগ্নির প্রধান কারণগুলোর একটি।
তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে সেনা ও বিমানবাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় জনবল, ভারী যন্ত্রপাতি, বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম এবং হেলিকপ্টারের নজরদারি ও পানি নিক্ষেপ সহায়তায় ২৪ ঘণ্টা অভিযান চালানো হচ্ছে। অত্যন্ত দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেনা ও বিমানবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টা আগুনের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুর্গম ও খাড়া পাহাড়ি এলাকায় যেখানে স্থলপথে পৌঁছানো কঠিন, সেখানে আকাশপথে চালানো প্রচেষ্টা অত্যন্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
ভারতের এসব অঞ্চলে ক্রমাগত শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সতর্কতা বজায় রেখেছে কর্তৃপক্ষ। নতুন করে যেকোনো অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা রোধ করতে এবং আশেপাশের বনাঞ্চলগুলোকে সুরক্ষিত রাখতে স্থল দল এবং বিমান ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় করছে।,
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.