
নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদুল ফিতরের পরপরই দেশের বিভিন্ন জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ঘাটতির কারণে বহু ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, আর যেগুলো খোলা রয়েছে সেগুলোতেও তেল না থাকায় খালি হাতে ফিরছেন যানবাহন চালকরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় অনেক কম জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পেট্রল ও অকটেনের সরবরাহ প্রায় বন্ধ, আর ডিজেলও মিলছে সীমিত পরিমাণে। এতে করে অনেক পাম্প মালিক বাধ্য হয়ে স্টেশন বন্ধ রাখছেন।
রাজশাহীতে ৪৪টি ফিলিং স্টেশনের অর্ধেকের বেশি বন্ধ রয়েছে। যেগুলো খোলা আছে, সেখানেও তেল সংকট তীব্র। পাম্প মালিকদের দাবি, ঈদের আগেই মজুত শেষ হয়ে গেছে এবং নতুন করে পর্যাপ্ত সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না।
উত্তরের জেলাগুলোতে পরিস্থিতি আরও নাজুক। পঞ্চগড়-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৪৬টি স্টেশনের মধ্যে ৪৩টি বন্ধ রয়েছে। কুড়িগ্রামের সব ২০টি ফিলিং স্টেশন তেলশূন্য হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।
চট্টগ্রামেও একই চিত্র। অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও অকটেন নেই, আবার কোথাও অকটেন থাকলেও ডিজেল নেই। পাম্প মালিকদের মতে, ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পে-অর্ডার করতে না পারায় সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ব্যাংক খোলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, খুলনা ও বরিশালেও অধিকাংশ পাম্পে তেল নেই বা সীমিত সময়ের জন্য খোলা রাখা হচ্ছে। কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্ধেক সময়ও পাম্প চালু রাখা যাচ্ছে না। এতে পরিবহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে, কিছু এলাকায় তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগও উঠেছে। খোলা বাজারে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রশাসনের অভিযানে অনেক জায়গায় এমন অভিযোগের সত্যতা মেলেনি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। দ্রুত ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে পরিবহন খাতসহ সার্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়বে।











