সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা থেকে বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের সঙ্গে সরাসরি ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে তাড়াশ–রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ কাজ চলমান রয়েছে।
সড়কটি নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আঞ্চলিক মহাসড়কের বিকল্প পথ তৈরি করে যানজট ও ডাকাতির ঝুঁকি কমানো এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর গ্রামীণ জীবনযাত্রা উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করা।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) রাজশাহী বিভাগের আওতাধীন গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের অধীনে সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার হেডকোয়ার্টার থেকে কাটাগাড়ি জিসি পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়।
প্রকল্পের আওতায় ১১ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড, যার চুক্তিমূল্য ১৯ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি ফেব্রুয়ারি ২০২৫ সালে কাজ শুরু করে। অপরদিকে ৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ পায় বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, যার চুক্তিমূল্য ৬ কোটি টাকা এবং তারা ডিসেম্বর ২০২৪ সালে কাজ শুরু করে।
সোমবার(১৯ জানুয়ারী) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের অংশে স্টক ইয়ার্ডে কিছু নির্মাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে এবং প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জন শ্রমিক মাটির কাজ করছে। অপরদিকে মোহাম্মদ ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের অংশে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ ট্রাক নির্মাণসামগ্রী মজুদ করা হয়েছে। সেখানে রাস্তা ফাটানো, খুঁটি ঢালাই ও খুঁটি পোঁতার কাজ চলছে। পাশাপাশি ট্রাকে করে মাটি আনা হচ্ছে এবং প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শ্রমিক মাটির কাজ করছেন।
ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেডের প্রতিনিধি রঞ্জু মিয়া জানান, সিরাজগঞ্জে এ ধরনের কাজের মেয়াদ সাধারণত এক বছর নির্ধারণ করা হয়। তবে বিভিন্ন অদৃশ্য কারণে এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির বাধার ফলে কাজের গতি প্রত্যাশিতভাবে বাড়ানো যাচ্ছে না।
কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বলেন, ১১ কিলোমিটার ও ৩ কিলোমিটার—উভয় কাজের জন্যই এক বছরের মেয়াদ দেওয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি। স্টক ইয়ার্ডে ডাব্লিউএমএম করার জন্য প্রায় দেড় লাখ সিএফটি মালামাল মজুদ রয়েছে। ৬ কিলোমিটার বেড ভেরিফিকেশনের প্রস্তুতি চলছে, প্লাসেটিংয়ের কাজ চলমান এবং ১০ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৭০ শতাংশ মাটির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ চলমান রয়েছে। রাস্তার ওয়াইডেনিং, বক্স কাটিং, বালু ফিলিং ও সাব-বেজের কাজ শেষ হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রায় ৪ কিলোমিটার ওয়াইডেনিং কাজের বিল এখনো বকেয়া রয়েছে এবং ভাটায় মামলার কারণে প্রায় ২ কোটি টাকা অগ্রিম দিতে হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আগামী এক মাসের মধ্যে ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হবে।
বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউর রহমান জানান, রাজশাহী বিভাগ ওয়াইডেনিং অ্যান্ড স্ট্রেন্থেনিং প্রকল্পের আওতায় এ কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি বছরের বর্ষা মৌসুমের আগেই সড়কের ওয়াইডেনিং ও সাব-বেজের কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। বর্তমানে শুকনো মৌসুমে পূর্ণ গতিতে কাজ করা গেলে প্রকল্পটি শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না। ঠিকাদারদের মানসম্মতভাবে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য জোর তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.