আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডজুড়ে একাধিক বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার প্রতিবাদে গতকাল শনিবারই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্বায়ত্তশাসিত ডেনিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের চাপের বিরুদ্ধে এ দিন হাজার হাজার মানুষ কোপেনহেগেনের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবর অনুসারে, বিক্ষোভগুলো এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের নিয়ে গঠিত একটি প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেনে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
ডেনমার্কে বসবাসরত গ্রিনল্যান্ডবাসীদের সংগঠন উআগুত তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, এই বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য হলো– গ্রিনল্যান্ডের গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকারকে সম্মান করার বিষয়ে একটি স্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ বার্তা দেওয়া।
এদিকে, ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড-বিষয়ক বিশেষ দূত জেফ ল্যান্ড্রি গত শুক্রবার বলেন, এই সফরের মধ্যেই ওয়াশিংটনের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ড দখল বা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি হওয়া উচিত এবং অবশ্যই হবে। ডেনমার্কের অংশ হলেও স্বশাসিত এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে আনার ব্যাপারে ট্রাম্প খুবই সিরিয়াস।,
নাগরিক উদ্যোগ হ্যান্ডস অব কালাল্লিত নুনাতের প্রতিনিধি পোল ইয়োহানেসেন বলেন, ‘এই সময় আমাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান দেখানো এবং ব্যাপকভাবে সহযোগিতা করা খুবই জরুরি। আমরা গ্রিনল্যান্ডের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি সম্মান দেখানোর দাবি জানিয়েছি। এটা শুধু গ্রিনল্যান্ডের লড়াই নয়–এটা পুরো বিশ্বের জন্যই একটি লড়াই।’
এর আগে গত শুক্রবার ট্রাম্প হুমকি দেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিরোধিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর তিনি শুল্ক আরোপ করতে পারেন। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি স্বশাসিত অঞ্চল। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেননি, কোন কোন দেশের ওপর শুল্ক বসবে বা কোন আইনের আওতায় তিনি এটা করবেন। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড ছাড়াও আরও অনেক দেশ এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও অনেক মানুষ গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
কয়েক দিন আগেই ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইডেন গ্রিনল্যান্ডে সীমিতসংখ্যক সেনা মোতায়েন করে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা শুধু ডেনমার্কের বিষয় নয়, বরং পুরো ন্যাটো জোটের একটি যৌথ দায়িত্ব।
গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য, শুল্ক আরোপের হুমকি, ন্যাটোর সেনা মোতায়েন এবং সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ–সব মিলিয়ে আর্কটিক অঞ্চল ঘিরে বিশ্ব রাজনীতি এখন অত্যন্ত উত্তপ্ত।,
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.