
নিজস্ব প্রতিবেদক: ১২৭ বছর পুরোনো ‘দ্য পোস্ট অফিস অ্যাক্ট, ১৮৯৮’ প্রতিস্থাপন করে নতুন ‘ডাকসেবা অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। নতুন আইনে ডাক বিভাগের ডিজিটাল রূপান্তর, ই–কমার্স নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক ঠিকানা ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সম্প্রতি এই অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দেশে ডাক ও কুরিয়ার সেবা পরিচালনা, লাইসেন্স প্রদান এবং তদারকির জন্য আইনিভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া ডাক, কুরিয়ার বা পার্সেল ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক জরিমানার সর্বোচ্চ সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বৈষম্য রোধ ও পৃথক হিসাব সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নতুন আইনে ডিজিটাল ডাকটিকিট বা ই–স্ট্যাম্প চালুর বিধান যুক্ত হয়েছে, যা অনলাইনে পরিশোধের মাধ্যমে কিউআর কোড বা বারকোড আকারে ব্যবহৃত হবে এবং আইনি স্বীকৃতি পাবে। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষায় অপারেটরদের তথ্য ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা, অপ্রয়োজনীয় তথ্য অপসারণ এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় লজিস্টিক্স ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা ও সকল বাণিজ্যিক অপারেটরের আন্তঃপরিচালন নিশ্চিত করার বিধানও রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে বাংলাদেশ ডাককে জরুরি সেবা হিসেবে ঘোষণা এবং জাতীয় অবকাঠামো হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সরকারি দপ্তর, মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহকে দাপ্তরিক নথি, স্বল্প ওজনের পার্সেল ও সংবেদনশীল সরকারি চালান প্রেরণে নির্ধারিত অপারেটরের সেবা অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশনা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চিফ কন্ট্রোলার অব স্ট্যাম্পস দপ্তর প্রতিষ্ঠার বিধান যুক্ত হয়েছে।
সীমান্ত অতিক্রমকারী ডাক ও পার্সেলের ক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক অগ্রিম ডাটা প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিদেশগামী বা উচ্চমূল্যের চালানের ক্ষেত্রে কেওয়াইসি যাচাইকরণ, এক্স–রে স্ক্যানিং, কর্মীদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিস্থিতির প্রস্তুতি গ্রহণের বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের নিষিদ্ধ দ্রব্যের তালিকা অনুসরণের নির্দেশনাও রাখা হয়েছে।
ডাক জীবন বিমা ও ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংককে “অধিকারী ডাকসেবা” হিসেবে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এসব সেবায় রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি, আমানত ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের বিধান যুক্ত হয়েছে।
ঠিকানা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল অ্যাড্রেস, জিও–ফেন্সিং, পরিবারভিত্তিক ম্যাপিং এবং স্থায়ী ডিজিটাল আর্কাইভ তৈরির বিধান রাখা হয়েছে, যাতে জলবায়ু পরিবর্তন বা নদীভাঙনজনিত স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ঠিকানা পুনঃনির্ধারণ সম্ভব হয়। ভাসমান জনগোষ্ঠী ও বস্তিবাসীদের জন্য কালেক্টিভ ঠিকানা ও পোস্ট বক্স সুবিধার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া কুরিয়ার ও ই–কমার্স খাতে শৃঙ্খলা আনতে পেমেন্ট গেটওয়ে, কুরিয়ার অপারেটর ও ই–কমার্স প্ল্যাটফর্ম সমন্বয়ে এসক্রো সুবিধাসম্পন্ন সেন্ট্রাল লজিস্টিক্স ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মকে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির প্রযুক্তিগত কাঠামো প্রস্তুত এবং পাইলট কার্যক্রম চলমান রয়েছে।











