নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ আইনে সাম্প্রতিক সংশোধনের মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার ক্ষমতা আইনি কাঠামো থেকে প্রত্যাহারসহ একাধিক কাঠামোগত ও নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। সংশোধিত আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা, বিনিয়োগ পরিবেশ, জবাবদিহি ও নজরদারি ব্যবস্থায় নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধনী অনুযায়ী, বক্তব্যকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে সরাসরি সহিংসতা উসকে দেওয়ার সম্পর্ক থাকতে হবে। এতে বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের সুরক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর বিভিন্ন কার্যকরী ক্ষমতা পুনর্বহাল করা হয়েছে। লাইসেন্স প্রদান, পারমিট, ট্যারিফ নির্ধারণ, মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্টসহ বেশিরভাগ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা কমানো হয়েছে। তবে জাতীয় অর্থনীতির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু এককালীন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে পর্যালোচনার শর্ত রাখা হয়েছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জরিমানার পরিমাণ হ্রাস করা হয়েছে। এতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি কোয়াসি-জুডিশিয়াল কমিটি গঠনের বিধান যুক্ত হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা করবে। পাশাপাশি সংসদীয় কমিটির কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা সংযোজন করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করার ক্ষমতা প্রত্যাহার। এর মাধ্যমে নাগরিক সংযোগ, তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল অর্থনীতির ধারাবাহিকতা আইনি সুরক্ষা পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ ছাড়া নজরদারি ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইনসম্মত নজরদারিকে ‘জরুরি’ ও ‘অ-জরুরি’ দুই ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে এবং প্রি-অ্যাপ্রুভাল, পোস্ট-ফ্যাক্টো রিভিউ, নির্ধারিত সময়সীমা, ইভেন্ট লগিং ও অ্যাক্সেস কন্ট্রোলসহ বিভিন্ন প্রক্রিয়া কাঠামোবদ্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেওয়া হয়েছে।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.