
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি: ঝিনাইদহে ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে যুবক নিরবকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার জেরে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতে পাম্প মালিকের একাধিক স্থাপনা এবং টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকাগামী তিনটি বাসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিরব নামে ওই যুবক নিহত হন।
নিরব কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার বাদুরগাছি গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পোড়াহাটি ইউনিয়নের বাড়ইখালি গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে নাসিম হোসেন, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের ইনুস আলীর ছেলে রমিজুল ইসলাম এবং সুরাট ইউনিয়নের কাষ্টোসাগরা গ্রামের সুফিয়ারের ছেলে দাউদ হোসেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার রাতে তেল নিতে আসেন যুবক নিরব হোসেন। এ সময় পাম্পের কর্মচারীরা তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। যুবক নিরব হোসেন কিছু সময় পরে আবারও ফিলিং স্টেশনে আসেন। এসময় অন্য এক ব্যক্তিকে বোতলে তেল দিতে দেখে প্রতিবাদ করলে পাম্পের কর্মচারীরা লাঠি দিয়ে নিরবকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে এ ঘটনায় শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তাজ ফিলিং স্টেশনের মালিকানাধীন শহরের আরাপপুরে সৃজনী তেল পাম্পে ভাংচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। পরে রাত ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এর আগে সৃজনী এনজিওর মালিক আওয়ামী লীগ নেতা ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের বাড়ি এবং ইউনিলিভার ডিপোতে হামলা চালানো হয়।
সৃজনী পেট্রোল পাম্পের ক্যাশিয়ার আলামিন শেখ জানান, শনিবার মধ্যরাতে অজ্ঞাতনামা ২০-৩০ জনের একটি দল তাদের পাম্পে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এ সময় পুলিশ বাধা দিলেও তা উপেক্ষা করে পাম্পের তিনটি মেশিন ভেঙে ফেলে উত্তেজিত জনতা।
ঝিনাইদহ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার তানভীর হাসান জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে কে বা কারা ঝিনাইদাহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মানেলে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিহত নিরব আহমেদের খালাতো ভাই সোহেল হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই সহজ সরল মানুষ। মোটরসাইকেলের তেল নিতে গিয়ে পাম্পের কর্মীদের সঙ্গে তার সামান্য কথা কাটাকাটি হয়। কিন্তু পাম্পের কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে আমার ভাইকে খুন করেছে। আমি হত্যাকান্ডের বিচার চাই।’
ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, ‘নিরব নামে এক যুবক পাম্পে তেল নিতে আসে। এসময় পাম্পের কর্মীরা বাকবিতণ্ডার জেরে ওই যুবককে পিটিয়ে আহত করে। পরে ওই যুবককে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পাম্পের তিন কর্মীকে আটক করা হয়েছে। পাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’











