নিজস্ব প্রতিবেদক জাতীয় সংসদে তথাকথিত ‘জুলাই আদেশ’-কে আইনি ভিত্তিহীন ও সংবিধানের ওপর ‘প্রতারণা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংসদে জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার বিষয়ে বিরোধী দলের মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই আদেশ’ কোনো আইন নয়; এটি একটি ‘কালারেবল লেজিসলেশন’ এবং সংবিধানের ওপর ‘ফ্রড অন দ্য কনস্টিটিউশন’। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানই দেশের মৌলিক ভিত্তি এবং কোনো অবৈধ আদেশের মাধ্যমে সার্বভৌম সংসদকে বাধ্য করা যাবে না।
বিরোধী দলের সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা ৭২-এর সংবিধান মানেন না বলে দাবি করেন, তারাই আবার ওই সংবিধানের আলোকে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ‘জুলাই আদেশ’-এর ১২ ধারায় সংবিধানে জুলাই সনদ অন্তর্ভুক্ত করার কথা উল্লেখ আছে, যা প্রমাণ করে সংবিধানই মূল ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি জুলাই সনদের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নারী প্রার্থী মনোনয়নের বিধান মেনে চলেছে। তবে বিরোধী দল সনদের কথা বললেও নির্বাচনে নারী প্রার্থী দেয়নি এবং ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাবও গ্রহণ করেনি।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদান স্মরণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। এছাড়া খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করায় বর্তমান সংসদীয় চর্চা সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
‘জুলাই আদেশ’ কেন আইন নয়, সে ব্যাখ্যায় মন্ত্রী বলেন, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট অনুযায়ী কোনো আদেশের আইনি ভিত্তি থাকতে হয়, যা এখানে অনুপস্থিত। সংবিধানে প্রদত্ত ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং চতুর্থ তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আদেশ দেওয়ার ক্ষমতাও অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়েছে।
আলোচনার শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রস্তাব অনুযায়ী বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী কমিটি গঠন করে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা উচিত। বিরোধী দলের ‘৫০-৫০’ প্রতিনিধিত্বের দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণই যৌক্তিক হবে।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.