
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার যেকোন অপতৎপরতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রসহ যেকোন সময় যেকোন স্থানে প্রবেশ করতে পারবেন বলে জানিয়েছে সরকার।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী অবসরপ্রাপ্ত।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নির্বাচনকালীন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে মাঠ পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রচার-প্রচারণাকালে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ জনগণ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, রাস্তাঘাট অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার, বাহিনীগুলোর কার্যক্রম আরও সক্রিয় করা এবং গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলায় শিগগিরই চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিলের তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে সহযোগীর ছদ্মবেশে নাশকতাকারীরা যাতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২ অভিযানে ৪ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, এক হাজার ৫৪১ রাউন্ড গুলি, ৫৬৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৬৫টি দেশীয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন বিস্ফোরক উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে মামলা ও ওয়ারেন্টভিত্তিক গ্রেপ্তারসহ মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৮০৪ জনে। অপরাধ দমন ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে।
সভায় কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় যানবাহন চালনায় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনকে পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, চোরাচালান ও মাদক দমন এবং পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি ও পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বিপিএমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।











