নিজস্ব প্রতিবেদক: ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় রাজধানী থেকে গ্রামে ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া অংশে। তবে অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া ওভারটেকিং, যত্রতত্র পার্কিং ও অনিয়ন্ত্রিত পারাপারের কারণে এক্সপ্রেসওয়েটিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এর পাশাপাশি ডাকাতি-ছিনতাই ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
সোমবার থেকে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে যাত্রীদের গ্রামের পথে যেতে দেখা যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি বাড়তি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে চালু হয় ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা মহাসড়ক, যা দেশের প্রথম এক্সপ্রেসওয়ে। দ্রুতগতির যান চলাচলের জন্য নির্মিত এই সড়কের ঢাকা থেকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া পর্যন্ত অংশটি আগে চালু করা হয়। চার লেনের মূল এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি রয়েছে চার লেনের সার্ভিস সড়ক। এছাড়া ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস, ইন্টারচেঞ্জ ও ওভারব্রিজসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত সুবিধা রয়েছে।
সরকারি সড়ক পরিবহন সংস্থা ও হাঁসাড়া হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪০০টি সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী, যানবাহনচালক ও পথচারী।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী থেকে মাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এই এক্সপ্রেসওয়েতে গত তিন মাসে, অর্থাৎ ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে যানবাহন থামিয়ে পাঁচটি বড় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে এবং ঈদে বাড়ি ফেরা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের টোল প্লাজার কাছে সেতু উত্তর থানার গোলচত্বর এলাকায় গণপরিবহনের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এ সুযোগে কিছু যাত্রীবাহী পরিবহন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এটিএম মাহমুদুল হক জানিয়েছেন, এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপত্তা জোরদারে হাসনাবাদ, আব্দুল্লাপুর, বাবুবাজার ও শ্রীনগরের ছনবাড়ীসহ পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দিন-রাত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে, যাতে চুরি বা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।
মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, সড়ক দুর্ঘটনা ও ছিনতাই-ডাকাতির মতো ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত প্রায় ১৮১টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়মিত নজরদারি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.