
নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন গ্রীষ্ম মৌসুমে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। এ পরিস্থিতিতে লোডশেডিং এড়াতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব কেন্দ্রের নিট উৎপাদন সক্ষমতা ৬ হাজার ৮৪৭ মেগাওয়াট হলেও গড়ে সাড়ে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ব্যবহার করা যাচ্ছে।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। তবে গ্রীষ্মে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সেচ মৌসুমের কারণে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। এ চাহিদা পূরণে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কয়লা ও ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম জানিয়েছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং গ্রিড-সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে সব সময় পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয় না। পটুয়াখালীর আরপিসিএল-নরিনকো ইন্টারন্যাশনাল পাওয়ার লিমিটেডের ১৩০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে। চলতি মাসের ২৫ থেকে ২৬ তারিখের মধ্যে এটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এবং ২০ মার্চ কেন্দ্রটির জন্য কয়লাবাহী কার্গো পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
কয়লা সরবরাহসংক্রান্ত জটিলতায় সবচেয়ে বেশি চাপে রয়েছে পটুয়াখালীর ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আরএনপিএল কেন্দ্র। দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহকারী নির্বাচন নিয়ে একাধিক দফায় দরপত্র আহ্বান ও বাতিল হয়েছে। চতুর্থ দফায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইয়াংথাই এনার্জি কারিগরি ও আর্থিকভাবে নির্বাচিত হলেও তা বাতিল করে নতুন দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
কেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন বিলম্বিত হওয়া ও ঋণ পরিশোধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এক্সিম ব্যাংক অব চায়না। আরএনপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এএইচএম রাশেদ ২১ জানুয়ারি ব্যাংকটির ডিভিশন চিফের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ঋণের গ্রেস পিরিয়ড এক বছর বাড়ানোর অনুরোধ করেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ বাবদ বিপিডিবির কাছে ১৯২ মিলিয়ন ডলার বকেয়া রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে কেন্দ্রটির জন্য এক বছর মেয়াদি কয়লা সরবরাহে ইন্দোনেশিয়ার পিটি সাম্বার এনার্জি টিবেকির সঙ্গে ২২ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সই হয়েছে। বিপিডিবির চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, এটি তিন মাস মেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থার অংশ। তবে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র সচল থাকলেও উচ্চমূল্যের এইচএফও থেকে সহায়তা নিতে হতে পারে।
বিপিডিবির ফেব্রুয়ারি মাসের হিসাব অনুযায়ী, পটুয়াখালীর বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড কেন্দ্রে ৭৬ দিনের কয়লা মজুদ রয়েছে। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৩৩ দিন, মাতারবাড়ী কেন্দ্রে ২৫ দিন, চট্টগ্রামের বাঁশখালী এসএস পাওয়ার কেন্দ্রে ২৩ দিন, বরিশালের ৩০৭ মেগাওয়াট কেন্দ্রে ৩৬ দিন এবং বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ২২২ দিনের মজুদ রয়েছে। আরএনপিএল কেন্দ্রে মজুদ রয়েছে সাত দিনের কয়লা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে। আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। তবে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।











