গাজায় গণহত্যা: ইসরাইলের বিরুদ্ধে নিজ দেশেরই দুই সংস্থার বিস্ফোরক প্রতিবেদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা উপত্যকায় ইসরাইল পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত গণহত্যা চালাচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছে দেশটির দুই প্রভাবশালী মানবাধিকার সংস্থা বতসেলেম এবং ফিজিশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (PHR)।

সোমবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে তারা ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানকে আন্তর্জাতিক আইনে গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইলকে থামাতে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি পরিচয়ের কারণে গাজার সাধারণ মানুষ—নারী, শিশু ও বৃদ্ধ—দীর্ঘ সময় ধরে ইসরাইলি বাহিনীর নিশানা হয়ে আসছে। এর ফলে ফিলিস্তিনি সমাজে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে গাজায় এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। লাখো মানুষ গৃহহীন হয়ে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।

প্রতিবেদনে ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংস, গণহারে বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও চিকিৎসা অবরোধসহ মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিস্তৃত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

বতসেলেম–এর নির্বাহী পরিচালক ইউলি নোভাক বলেন, “আমরা যা দেখছি, তা স্পষ্টভাবে গণহত্যা। একটি গোষ্ঠীকে ধ্বংস করার জন্যই বেসামরিক জনগণের ওপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে।”

অন্যদিকে PHR গাজার স্বাস্থ্যখাতকে টার্গেট করে চালানো ধারাবাহিক হামলার তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, কেবল স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর এই ধ্বংসযজ্ঞই জাতিসংঘের গণহত্যা কনভেনশনের ২(সি) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণহত্যা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

PHR–এর পরিচালক গায় শালেভ বলেন, “গণহত্যা নির্ধারণে সনদের পাঁচটি শর্তের সবকটি পূরণ না করলেও চলে। একটি অনুচেদ পূরণ হলেই যথেষ্ট, যা ইতোমধ্যেই ইসরাইল করেছে।”

দুই সংস্থা অভিযোগ করেছে, ইসরাইলের পশ্চিমা মিত্ররা এই গণহত্যায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। ইউলি নোভাক বলেন, “পশ্চিমা বিশ্বের সাহায্য ছাড়া এটি সম্ভব হতো না। কোনো নেতা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এই ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।”

PHR-এর মতে, এখন পশ্চিমা দেশগুলোর শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে গণহত্যা ঠেকাতে। “নিজেদের চিন্তা থেকে নয়, গণহত্যা কনভেনশনের আইনি নির্দেশনা অনুসারেই আমরা এই আহ্বান জানাচ্ছি,”বলেন গায় শালেভ।

ইসরাইল ও হামাসের সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। হামাসের হামলায় ইসরাইলে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও দুই শতাধিক জিম্মি হন। এরপর থেকে ইসরাইল গাজায় একের পর এক ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

Facebook
Twitter
WhatsApp
Pinterest
Telegram

এই খবরও একই রকমের

ভারতের হুমকির বাস্তবায়নে ওসমান হাদিকে গুলি, নেপথ্যে গোয়েন্দা সংস্থা ‘র

নিজস্ব প্রতিবেদক: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন পরই ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় আগ্রাসন এবং

এরা তো শিবির স্যার, নতুন ফোর্স লাগবে’—ডিসি মাসুদের ফোনালাপ ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদ আলম আবারও সমালোচনায়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় ছাত্র–জনতার ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের আগে তার উর্ধ্বতন

কামারখন্দে ধর্ষণের ঘটনায় সালিশ, জরিমানার টাকা বিএনপি নেতার পকেটে

নজরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ গোপনে ৩লাখ টাকায় মীমাংসা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মুসলিম ধর্মের মেয়েকে হিন্দু

ড্রেনে গ্যাস বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল সিদ্ধিরগঞ্জ, আহত ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ড্রেনে গ্যাস জমে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সিআই খোলার বউ বাজার

ছিনতাই-ডাকাতিতে বিনিয়োগ করছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ! চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশজুড়ে বেড়ে চলেছে ছিনতাই-ডাকাতির সংখ্যা। এসব যে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসরদের ষড়যন্ত্র তা দেশের জনগণ বুঝেছে আরও আগেই। এবার ফাঁস হলো

পাকিস্তানে ভয়াবহ সংঘর্ষ: সেনা ও সন্ত্রাসীসহ নিহত ৪৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ জনকে ‘ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী’ এবং ১২ জনকে