
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে এক ডিলারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ডিলার সানজিদা ইয়াসমিন রানীর বিরুদ্ধে নির্ধারিত চাল না দেওয়া এবং কার্ডধারীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ করেছেন একাধিক ভোক্তা।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই চাল নিতে গিয়ে তারা নানা অজুহাতে ফিরে আসছেন। ৯৯০ নম্বর কার্ডধারী ভ্যানচালক নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে চাল নিতে গেলে তাকে জানানো হয়, গুদামে চাল নেই। পরে আশ্বাস দেওয়া হয় পরবর্তীতে দেওয়া হবে। কিন্তু মার্চ মাসে চাল নিতে গেলে ডিলার তাকে আগের চাল দেওয়ার পরিবর্তে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনো চাল দেওয়া হবে না।
একই ধরনের অভিযোগ করেন ৮৩৬ নম্বর কার্ডধারী মোমেনা খাতুন। তিনি জানান, নভেম্বর মাসে চাল নিতে গেলে বারবার তাকে বিভিন্ন দিনে আসতে বলা হয়। কয়েকবার যাওয়ার পরও চাল না পেয়ে শেষ পর্যন্ত তার স্বামী মোজাম্মেলকে পাঠান। মোজাম্মেলের অভিযোগ, তাকেও অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং জানানো হয়, মাস শেষ হয়ে যাওয়ায় চাল শেষ। পরে মার্চ মাসে চাল নিতে গেলে একই ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার হন তিনি।
এলাকার আরও কয়েকজন কার্ডধারী জানান, ডিলারের ভাই ভোলা খাও তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। অনেক সময় চাল থাকা সত্ত্বেও “চাল শেষ” বলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আবার কাউকে চাল দিতে চাইলেও বারবার ঘুরানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, মাস্টাররোল অনুযায়ী সব কার্ডধারীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে আরও অনেক অনিয়মের তথ্য বেরিয়ে আসবে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. মোহাজের হাসান বলেন, ডিলার ইতোমধ্যে মাস্টাররোল জমা দিয়েছেন, যেখানে দেখা যাচ্ছে মার্চ মাসের ১১ তারিখে চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে টিপসই ও স্বাক্ষর রয়েছে। তবে কার্ডধারীদের কার্ডে চাল উত্তোলনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা বিষয়টিকে সন্দেহজনক করে তুলেছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।











