
নিজস্ব প্রতিবেদক: ড.মুহাম্মদ ইউনূস প্রতারণা এবং জালিয়াতির অভিযোগে একের পর এক অভিযুক্ত হচ্ছেন। একদিকে শ্রমিক ঠকানোর অভিযোগে তিনি দণ্ডিত হয়েছেন। তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অর্থপাচার মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। এবার গ্রামীণ ব্যাংক ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গ্রামীণ ব্যাংক বলছে যে, গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান এবং গ্রামীণ কল্যাণ গঠন করা হয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের টাকায়। সেই গ্রামীণ কল্যাণকে এখন ড. ইউনূস নিজের প্রতিষ্ঠান বলে দাবি করছেন। এটি শুধু অনৈতিক এবং অনভিপ্রেত নয়, প্রতারণা এবং জালিয়াতি। আর এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে গ্রামীণ ব্যাংক মামলা করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গ্রামীণ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণ গঠিত হয়েছিল গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। গ্রামীণ ব্যাংকের বোর্ড সভায় গ্রামীণ ব্যাংকে যে সমস্ত কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে তাদের কল্যাণ সাধনের জন্যই এই শ্রমিক কল্যাণ গঠন করা হয় এবং ঐ বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, গ্রামীণ কল্যাণে চেয়ারম্যান হবেন গ্রামীণ ব্যাংক থেকে মনোনীত একজন ব্যক্তি। গ্রামীণ ব্যাংকের ৬৯ কোটি টাকাও গ্রামীণ কল্যাণে হস্তান্তর করা হয়। অর্থাৎ আইনগতভাবে গ্রামীণ কল্যাণ গ্রামীণ ব্যাংকের একটি প্রতিষ্ঠান।’
গ্রামীণ কল্যাণ গঠিত হবার পর ড. ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবংগ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে গ্রামীণ টেলিকম গঠন করেন। গ্রামীণ টেলিকম গঠন করে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচয় দিয়েই গ্রামীণফোনের সাথে টেলিনরের সাথে চুক্তি করেন এবং গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণফোনের ৩৪ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা গ্রহণ করে। এর ফলেই ড. ইউনূসের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো জীবিত হয়।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, গ্রামীণ কল্যাণের যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে তার মধ্যে একমাত্র গ্রামীণ টেলিকম ছাড়া আর কোন প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকারিতা নেই। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে একজন করে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, একজন করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা ড. ইউনূসের একান্ত অনুগত। ড. ইউনূসের পক্ষে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে বক্তৃতা বিবৃতি দেওয়াই তাদের একমাত্র কাজ। এই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা বাণিজ্যের কোন ইতিবাচক দৃষ্টান্তও নেই। শুধুমাত্র গ্রামীণ টেলিকম গ্রামীণফোনের লভ্যাংশের টাকা পায় এবং এই টাকা গ্রামীণ কল্যাণের মাধ্যমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয়। কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। গ্রামীণ কল্যাণের প্রতিষ্ঠান যদি গ্রামীণ টেলিকম হয়। আর গ্রামীণ কল্যাণ যদি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠান হয় তাহলে গ্রামীণ টেলিকম আসলে কার প্রতিষ্ঠান’?
উল্লেখ্য যে, কিছুদিন আগে গ্রামীণ ব্যাংক এই কাগজপত্রগুলো যাচাই বাছাই করে গ্রাগ্রীণ টেলিকম এবং গ্রামীণ কল্যাণ অফিস দখল করতে গিয়েছিল কিন্তু পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংক মনে করেছে যে, আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাওয়া উচিত। এভাবে গেলে ড. ইউনূস ইস্যুটিকে যেভাবে পল্লবিত করছেন তাতে গ্রামীণ ব্যাংকের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এজন্য গ্রামীণ ব্যাংক এখন যথাযথ আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ কল্যাণের মালিকানা দাবি করতে যাচ্ছে। খুব শিগগির তারা আদালতে হাজির হবেন।
গ্রামীণ কল্যাণের মালিকানা যদি গ্রামীণ ব্যাংক পেয়ে যায় তাহলে ড. ইউনূস নিঃস্ব হবেন এবং এই মামলায় ড. ইউনূসের প্রতারণা এবং জাল জালিয়াতির স্বরূপ উন্মোচিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।