
জুয়েল রানা: শীতের প্রকোপ শুরু হতেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় লেপ তোষক তৈরির কারিগরদের এখন ব্যস্ত সময়। শীত বাড়ছে কাজের চাপ, জমে উঠেছে বেচাকেনা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তুলা ফোলানো, কাপড় কাটাছেঁড়া আর সেলাইয়ের কাজ। বাজার ও অলিগলিতে লেপ তোষকের দোকানগুলোতে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের ভিড়।
উল্লাপাড়া পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের বাড়ার সাথে সাথে অনেক পরিবার নতুন লেপ তোষক কিনছেন কিংবা পুরোনো তোষক সংস্কার করাচ্ছেন। ফলে কারিগরদের হাতে কাজের অভাব নেই। কেউ কেউ অর্ডার সামলাতে অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন।
তবে দাম নিয়ে রয়েছে ক্রেতাদের অসন্তোষ। ক্রেতাদের অভিযোগ, আগের বছরের তুলনায় এবার লেপ তোষকের দাম বেশ চড়া। মান ও আকার ভেদে একটি লেপের দাম পড়ছে ১৫ শত টাকা থেকে শুরু করে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই দাম কিছুটা চাপের বলেই মনে করছেন অনেকে।
একজন ক্রেতা বলেন, আগে যেই লেপ ১৫ থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেই লেপ কিনতে গেলে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকার ওপরে গুনতে হচ্ছে। শীতের দরকারে কিনতেই হচ্ছে, কিন্তু দাম বেশি।
অন্যদিকে বিক্রেতারা বলছেন, দাম বাড়ার পেছনে রয়েছে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি। তুলা, কাপড়, সুতা ও অন্যান্য উপকরণের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়েই লেপ তোষকের দাম বাড়াতে হয়েছে।
একজন বিক্রেতা জানান, তুলা আর কাপড়ের দাম অনেক বেড়েছে। আগে যেই দামে তুলা কিনতাম, এখন তার চেয়ে অনেক বেশি দিতে হচ্ছে। খরচ না উঠলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।
এদিকে লেপ তোষক তৈরির কারিগরদের মাঝেও দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। দিনভর পরিশ্রম করেও প্রত্যাশিত মজুরি না পাওয়ার অভিযোগ করছেন তারা। কেউ কেউ বলছেন, কাজের চাপ বাড়লেও মজুরি তেমন বাড়েনি।
একজন কারিগর বলেন, সারাদিন কাজ করি, হাত পা ব্যথা হয়ে যায়। কিন্তু মজুরি খুব একটা বাড়েনি। তারপরও সংসারের জন্য কাজ করতেই হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, শীত যত বাড়বে, ততই লেপ-তোষকের চাহিদা আরও বাড়বে। তখন বাজারে বেচাকেনা আরও জমজমাট হবে বলে আশা করছেন তারা। তবে কাঁচামালের দাম যদি আরও বাড়ে, তাহলে লেপ-তোষকের দামও বাড়তে পারে এমন আশঙ্কাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে, শীতে উল্লাপাড়ার লেপ তোষকের বাজারে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। ব্যস্ত কারিগর, জমজমাট বেচাকেনা আর দাম নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতার টানাপোড়েন সবকিছু মিলিয়ে এখন উল্লাপাড়ার বাজারে শীতের প্রস্তুতি চোখে পড়ার মতো।











