নিজস্ব প্রতিবেদক:সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশায় বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দিনব্যাপী সদর উপজেলার ৩নং বহুলী ইউনিয়নে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
তিনি বহুলী ইউনিয়ন পরিষদ, ডুমুর হাটখোলা, বহুলী বাজার ও আলমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একইসঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে আগামী রাজনৈতিক কর্মকৌশল নিয়েও আলোচনা করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির উপদেষ্টা এস এম রঞ্জু, চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংবাদিক তানভীর শাকিলসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও মৎস্য দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সভায় ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস বলেন, দলের ঐক্য ও নেতাকর্মীদের সমর্থনই তার মূল শক্তি। তিনি সদর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে সকলের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
উল্লেখ্য, ছাত্রদলের সোনালী ফসল হিসেবে পরিচিত অমর কৃষ্ণ দাস ছাত্রজীবনে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ছাত্র-ছাত্রী সংসদের বারবার নির্বাচিত ভিপি থেকে তিলে তিলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জিয়াউর রহমানের আদর্শের পরিক্ষিত সৈনিক হিসেবে। ছাত্রনেতা থেকে জননেতায় রুপান্তর হওয়া এই রাজনীতিবিদ শত হামলা-মামলা মাথায় নিয়েও সাহসিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন উপজেলা ও জেলা বিএনপি’র বিভিন্ন পদে।
জানা যায়, ১৯৬৬ সালে ডিসেম্বর মাসের ৩১তারিখে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ১০নং ওয়ার্ড ধানবান্দি (উত্তর) মহল্লায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মনগ্রহন করেন ওমর কৃষ্ণ দাস। ছয় ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি পঞ্চমতম। ধানবান্দি স্বরসতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিক্ষাজীবন শুরু। ছাত্রজীবন থেকেই ছিলেন অত্যন্ত প্রখর মেধাবী। বৃত্তি পাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা জীবনে তিনি আইন ডিগ্রিও লাভ করেছেন। সিরাজগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ঐতিহ্যবাহী বি.এল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পড়াশোনা শেষে পা রাখেন সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। কলেজ জীবনের প্রথম থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থেকে তাদের আপনজনে পরিনত হন অমর কৃষ্ণ দাস। ১৯৭৭ সালে হুরা সাগর খাল খননে শহীদ জিয়াউর রহমান পরিদর্শনে এলে তার হাতে হাত মিলিয়ে ছিলেন অমর কৃষ্ণ দাস। সেই সময় থেকে জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে যোগ দেন ছাত্রদলের রাজনীতিতে।
সেসময় শিক্ষার্থীদের ভালোবাসায় ১৯৮৮-৮৯ শিক্ষা বর্ষের ছাত্র-ছাত্রীদের নির্বাচিত ভোটে ভিপি পদে জয় লাভ করেন প্রথমবার। ১৯৮৯-৯০ শিক্ষা বর্ষে আবারও দ্বিতীয় বার ভিপি নির্বাচিত হন বারবার নির্বাচিত, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর, ক্লিন ইমেজের নেতৃত্বদানকারী হিসেবে
সকলের নিকট জনপ্রিয় হয়ে উঠতে থাকে। এরপর থেকেই আজও তার নামের পাশে ভিপি বলে জেলাজুড়ে খ্যাত রয়েছে। তাঁর বর্ণাঢ্য ছাত্র রাজনীতিতে সিরাজগঞ্জ সরকারি মহিলা হোস্টেল (জাহানারা হল) ও ছাত্রদের জিয়া হল প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯১ সালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ অনার্স প্রোগ্রাম চালুর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখেন।রাজপথের লড়াকু সৈনিক, কর্মী বান্ধব নেতা, দলের দুঃসময়ে রাজপথে যাকে সব সময় সর্ব প্রথমেই সোচ্চার দেখা যায় তিনি হলেন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ সভাপতি ভিপি অমর কৃষ্ণ দাস।
৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক,
অর্ধশতাধিক মামলার আসামি হয়েও নিজের জীবনের
পরোয়া না করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে
সিরাজগঞ্জ জেলার ১৮টি ইউনিটের প্রত্যেকটি থানায় থানায় গিয়ে তিনি সর্বদাই মিছিল মিটিং করে ছিলেন। এজন্য হয়েছেন বারবার নির্যাতিত, কারাবরণও করেছেন অসংখ্যবার ।
ইপেপার
Copyright © 2026 ThikanaTV.Press. All rights reserved.