
নিজস্ব প্রতিবেদক পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই বিবাদমান গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ অন্তত ৩০ থেকে ৩৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৮ থেকে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। সংঘর্ষের সময় অগ্নিসংযোগ, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও দলীয় কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে শহরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
সোমবার ২৩ মার্চ দুপুরে শহরের রেলগেট এলাকা থেকে পোস্ট অফিস মোড় পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলও বন্ধ থাকে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব গ্রুপ ও পিন্টু গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে উভয় পক্ষ পৃথক বিক্ষোভ মিছিল বের করলে রেলগেট এলাকায় মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে হাবিব গ্রুপের অন্তত ২০ থেকে ২৫ জন এবং পিন্টু গ্রুপের ১০ থেকে ১২ জন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ঈদের চাঁদরাতে পিন্টু গ্রুপের এক কর্মীকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
সোমবার সকালে পিন্টু গ্রুপ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে হাবিব গ্রুপও মিছিল বের করে। পরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে, এতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়।
ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার সরকার জানান, সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ পক্ষগুলোকে পৃথকভাবে মিছিল করার অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. তাসনিম তামান্না স্বর্ণা জানান, ইট-পাথরের আঘাতে আহত অন্তত ১৮ থেকে ২০ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুজ্জামান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।











